বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের কোনো কর্মকর্তা–কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়/নেওয়া উচিত নিচে আলোচনা করা হল:-
১) প্রাথমিক যাচাই ও নথিভুক্তকরণ:
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
- রেজিস্ট্রার জেনারেল / সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রার
- প্রধান বিচারপতির প্রশাসনিক নির্দেশনায় গঠিত কর্তৃপক্ষ
করণীয়
- প্রাপ্ত অভিযোগ ও প্রমাণ (ডকুমেন্ট, অডিও–ভিডিও, ব্যাংক রেকর্ড ইত্যাদি) নথিভুক্ত করা
- অভিযোগ prima facie (প্রাথমিকভাবে গ্রহণযোগ্য) কি না তা যাচাই
- প্রয়োজনে ৩–৫ সদস্যের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন।
-
২) তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা (প্রমাণ শক্ত হলে):
প্রাথমিক যাচাইয়ে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গেলে-
ক) সাময়িক বরখাস্ত (Suspension):
- সার্ভিস রুলস অনুযায়ী অভিযুক্তকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা যায়
- উদ্দেশ্য: প্রমাণ নষ্ট, প্রভাব বিস্তার বা তদন্তে বাধা রোধ
খ) দায়িত্ব প্রত্যাহার / বদলি:
- সংবেদনশীল পদে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি
- প্রয়োজন হলে অ-সংবেদনশীল বিভাগে বদলি।
-
৩) বিভাগীয় তদন্ত (Departmental Proceedings):
আইনি ভিত্তি
- সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারী সার্ভিস রুলস
- সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
প্রক্রিয়া:
- চার্জশিট প্রদান
- আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ
- তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ
- সাক্ষ্য–প্রমাণ গ্রহণ
- তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল
সম্ভাব্য শাস্তি:
- চাকরিচ্যুতি / বরখাস্ত
- পদাবনতি
- বেতন কর্তন
- বাধ্যতামূলক অবসর।
৪) ফৌজদারি ব্যবস্থা(দুর্নীতি প্রমাণ হলে):
দুর্নীতির উপাদান স্পষ্ট হলে—
ক) দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) প্রেরণ
- সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে দুদকে অভিযোগ/তথ্য প্রেরণ
- দুদক নিজস্ব তদন্ত শুরু করে
খ) মামলা ও বিচার:
- দুদক তদন্ত শেষে মামলা দায়ের
- বিশেষ জজ আদালতে বিচার
- দোষ প্রমাণিত হলে:
বিভাগীয় তদন্ত ও ফৌজদারি মামলা একসাথে চলতে পারে একটি অন্যটির জন্য অপেক্ষমাণ নয়।
৫) প্রধান বিচারপতির প্রশাসনিক ক্ষমতা:
- সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে
প্রধান বিচারপতি সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রয়োগ করতে পারেন
- বিশেষ পরিস্থিতিতে:
- দ্রুত শৃঙ্খলামূলক নির্দেশ
৬) অভিযুক্তের অধিকার(Due Process):
দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি পাবেন-
- নোটিশ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ
- আইনজীবীর সহায়তা
- আপিল / রিভিউ আবেদন করার অধিকার
-
৭) প্রতিরোধমূলক ও দীর্ঘ মেয়াদি ব্যবস্থা:
- সম্পদ বিবরণী বাধ্যতামূলক ও যাচাই
- অভ্যন্তরীণ অডিট জোরদার
- ডিজিটাল ফাইল ও কেস ম্যানেজমেন্ট
- হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা ব্যবস্থা
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
Leave a Reply