২০২৬-২৭ করবর্ষের (যা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে শুরু হলেও ১ এপ্রিলের কিছু প্রাসঙ্গিক আপডেট রয়েছে) জন্য আয়কর আইনে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। মূলত অর্থ অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং নতুন আয়কর আইন ২০২৩-এর আলোকে এই পরিবর্তনগুলো কার্যকর হচ্ছে।
নিচে ৮টি বড় পরিবর্তন বিস্তারিত দেওয়া হলো:
১. করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি:
সাধারণ করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৩.৫০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩.৭৫ লক্ষ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ বার্ষিক আয় ৩.৭৫ লক্ষ টাকার নিচে হলে কোনো কর দিতে হবে না।
২. রিটার্ন দাখিলের সময় সীমা বৃদ্ধি (৩১মার্চ২০২৬):
২০২৫-২৬ করবর্ষের জন্য আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার স্বাভাবিক সময় গত ৩০ নভেম্বর শেষ হলেও, এনবিআর (NBR) বিশেষ আদেশে চতুর্থ দফায় সময় বাড়িয়ে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। ফলে যারা এখনো রিটার্ন দেননি, তারা ১ এপ্রিলের আগে জরিমানা ছাড়াই রিটার্ন দিতে পারবেন।
৩. চাকরি জীবীদের করযোগ্য আয় নির্ণয়(Standard Deduction):
বেতনভোগী কর্মচারীদের জন্য মোট আয়ের ওপর সর্বোচ্চ করমুক্ত সুবিধার (Allowable Deduction) সীমা ৪.৫০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। এটি চাকরিজীবীদের ওপর করের বোঝা কিছুটা কমাবে।
৪. দেশ জুড়ে ফ্ল্যাট ৫,০০০ টাকা ন্যূনতম কর:
আগে সিটি করপোরেশন বা জেলা শহর ভেদে ন্যূনতম করের পার্থক্য (৩,০০০-৫,০০০ টাকা) ছিল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, করযোগ্য আয় সীমা অতিক্রম করলে অবস্থানের গুরুত্ব বিবেচনায় না নিয়ে সব করদাতার জন্যই ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা কর পরিশোধ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
৫. ‘জুলাই যোদ্ধা‘ বা আহতদের জন্য বিশেষ ছাড়:
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত গেজেটভুক্ত ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৫.২৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। এটি ১ এপ্রিল পরবর্তী নতুন করবর্ষে বড় সম্মাননা ও আর্থিক ছাড়।
৬. ব্যাংক ট্রান্সফারের কড়াকড়ি(Expense Disallowance):
কোম্পানি বা ব্যবসার ক্ষেত্রে একক লেনদেন ৫ লক্ষ টাকার বেশি এবং বার্ষিক মোট ব্যয় ৩৬ লক্ষ টাকার বেশি হলে তা অবশ্যই ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে করতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে সেই খরচটি অনুমোদিত হবে না এবং তার ওপর অতিরিক্ত কর দিতে হবে।
৭. ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স(Capital Gain):
শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা থেকে প্রাপ্ত লাভের ওপর করের হারে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন বড় বিনিয়োগকারীদের জন্য মূলধনী লাভ বা Capital Gain-এর ওপর করের হার ১৫% করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
৮. অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক(e-Return):
এনবিআর থেকে ১ এপ্রিলের পর আরও কড়াকড়িভাবে অনলাইন রিটার্ন পদ্ধতি চালু রাখা হচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এখন ই-মেইলের মাধ্যমে OTP পাওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যাতে তারা বিদেশ থেকেই সহজে রিটার্ন দাখিল করতে পারেন।
এক নজরে নতুন কর স্ল্যাব(২০২৬–২৭প্রস্তাবিত):
| আয়ের সীমা (টাকা) | করের হার (%) |
| প্রথম ৩.৭৫ লক্ষ পর্যন্ত | ০% (কর নেই) |
| পরবর্তী ৩.০০ লক্ষ পর্যন্ত | ১০% |
| পরবর্তী ৪.০০ লক্ষ পর্যন্ত | ১৫% |
| পরবর্তী ৫.০০ লক্ষ পর্যন্ত | ২০% |
| পরবর্তী ২০.০০ লক্ষ পর্যন্ত | ২৫% |
| অবশিষ্ট আয়ের ওপর | ৩০% |
সতর্কতা:
১ এপ্রিলের পর থেকে আয়কর সংক্রান্ত কোনো ভুয়া এসএমএস বা রিফান্ডের লিঙ্কে ক্লিক করবেন না। এনবিআর কখনোই ওটিপি বা ব্যাংক ডিটেইলস মেসেজের মাধ্যমে চায় না।
Leave a Reply