জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) মূলত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বিশেষ টাস্কফোর্সগুলো গঠন করেছে। এর লক্ষ্য কেবল কর আদায় বাড়ানো নয়, বরং রাজস্ব প্রশাসনের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো দূর করা।
নিচে এই টাস্কফোর্সগুলোর গঠন এবং কৌশলগত পদক্ষেপগুলো আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
১. টাস্ক ফোর্সের বিশেষায়িত কাঠামো:
এনবিআর সাধারণত তিনটি পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করেছে যা ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে:
- রাজস্ব নীতি সংস্কার টাস্ক ফোর্স: এটি মূলত আয়কর, ভ্যাট এবং শুল্ক আইন পর্যালোচনার কাজ করছে। অপ্রয়োজনীয় কর অব্যাহতি (Tax Exemption) কমিয়ে রাজস্ব বাড়ানো এদের মূল লক্ষ্য।
- রাজস্ব প্রশাসন সংস্কার টাস্ক ফোর্স: এটি এনবিআরের অভ্যন্তরীণ সুশাসন, কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা এবং করদাতাদের হয়রানি বন্ধে কাজ করছে।
- ডেটা ইন্টিগ্রেশন টাস্ক ফোর্স: এনবিআরের ডেটাবেজের সাথে অন্যান্য সরকারি সংস্থা (যেমন: বিআরটিএ, ডিপিডিসি, সিটি কর্পোরেশন) এর তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে কর ফাঁকি শনাক্ত করা।
২. কর–জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিতে প্রধান কৌশলসমূহ:
টাস্কফোর্স নিম্নলিখিত কৌশলগুলো বাস্তবায়নে কাজ করছে:
- কর ফাঁকি শনাক্ত করণ(Compliance Management): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং বিগ ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহারের মাধ্যমে যারা লাইফস্টাইল অনুযায়ী কর দিচ্ছে না, তাদের চিহ্নিত করা।
- কর নেট সম্প্রসারণ: শহর ও মফস্বল পর্যায়ে যেসব ব্যবসায়ী বা পেশাজীবী এখনো কর জালের বাইরে, তাদের টার্গেট করা।
- অডিট প্রক্রিয়া জোরদার: সন্দেহজনক ট্যাক্স রিটার্নগুলো অধিকতর যাচাইয়ের জন্য একটি শক্তিশালী অডিট টিম গঠন করা হয়েছে।
- অটোমেশন ও ই–রিটার্ন: বর্তমানে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর চেষ্টা চলছে।
৩. টাস্ক ফোর্সের সময়সীমা ও তদারকি:
এই টাস্কফোর্সগুলো কোনো অনির্দিষ্টকালের কমিটি নয়। এদের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছে:
- স্বল্প মেয়াদী লক্ষ্য: ৩ মাসের মধ্যে প্রাথমিক সংস্কার প্রস্তাব জমা দেওয়া।
- দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্য: আগামী ১-২ বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফ-এর কারিগরি সহায়তা দল এই টাস্কফোর্সগুলোকে নীতিগত পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে।
৪. করদাতাদের জন্য প্রভাব:
টাস্কফোর্স এমনভাবে কাজ করছে যাতে সাধারণ করদাতার ওপর চাপ না বাড়িয়ে ‘উচ্চবিত্ত ও বড় প্রতিষ্ঠান’ যারা কর এড়িয়ে চলে, তাদের ধরা যায়। এতে ব্যবসার পরিবেশ সহজ (Ease of doing business) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
Leave a Reply