বাংলাদেশের বর্তমান আয়কর আইন (আয়কর আইন ২০২৩) অনুযায়ী, একজন স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার বার্ষিক আয় একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে আয়কর দেওয়া বাধ্যতামূলক হয়। ২০২৫-২৬ করবর্ষের (বর্তমান সময় অনুযায়ী) সাধারণ নিয়মগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
আয়করের নূন্যতম সীমা(Tax-Free Threshold):
আপনার বার্ষিক মোট আয় যদি নিচের তালিকার নির্ধারিত সীমার বেশি হয়, তবেই আপনাকে আয়কর দিতে হবে:
| করদাতার ক্যাটাগরি | করমুক্ত আয়ের সীমা (বার্ষিক) |
| সাধারণ করদাতা (পুরুষ) | ৩,৫০,০০০ টাকা |
| নারী এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী করদাতা | ৪,০০,০০০ টাকা |
| তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা / শারীরিক প্রতিবন্ধী | ৪,৭৫,০০০ টাকা |
| গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা | ৫,০০,০০০ টাকা |
কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা আপনার জানা প্রয়োজন:
১. মোট আয় বনাম মূল বেতন:
আয়কর শুধুমাত্র “মূল বেতন” (Basic Salary)-এর ওপর নয়, বরং আপনার অর্জিত মোট আয়ের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়। এর মধ্যে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা এবং বোনাসও অন্তর্ভুক্ত। তবে সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বেতনের একটি নির্দিষ্ট অংশ পর্যন্ত করছাড় (Exemption) পাওয়া যায়।
সাধারণত মোট বার্ষিক বেতনের এক–তৃতীয়াংশ অথবা ৪,৫০,০০০ টাকা (যেটি কম), সেই পরিমাণ টাকার ওপর কোনো কর দিতে হয় না।
২. এলাকাভেদে নূন্যতম কর:
আপনার আয় যদি করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে, তবে আপনাকে আপনার এলাকা অনুযায়ী নূন্যতম একটি কর প্রদান করতে হবে:
৩. রিটার্ন দাখিল কি বাধ্যতামূলক?
আপনার আয় যদি করসীমার নিচেও থাকে, তবুও কিছু ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক (যেমন: যদি আপনার একটি টিন (TIN) সার্টিফিকেট থাকে বা আপনি যদি নির্দিষ্ট কিছু সরকারি/বেসরকারি সেবা গ্রহণ করতে চান)। তাহলে আপনাকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
আপনার জন্য একটি ছোট উদাহরণ:
আপনি যদি একজন পুরুষ চাকরিজীবী হন এবং আপনার মাসিক মূল বেতন ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে মোট আয় যদি বছরে ৩,৫০,০০০ টাকার নিচে হয়, তবে আপনাকে কোনো আয়কর দিতে হবে না। কিন্তু এটি ৩,৫০,০০০ টাকা পার হলেই আপনি করযোগ্য হবেন।
Leave a Reply