বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের আবাসন খরচ নাগালের মধ্যে রাখতে এবং বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে ঘর তৈরির প্রধান উপকরণ ঢেউটিনের দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা দীর্ঘদিন ধরে কাঁচামালে শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন।
এই দাবির পেছনের মূল কারণ ও বিস্তারিত বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. কাঁচামালের ওপর উচ্চ শুল্ক হার:
ঢেউটিন তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো সিআর কয়েল (CR Coil)। বর্তমানে এই কাঁচামাল আমদানিতে সিডি (Customs Duty), আরডি (Regulatory Duty), এসডি (Supplementary Duty) এবং ভ্যাটসহ মোটা অংকের শুল্ক ও কর দিতে হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, এই উচ্চ করহার সরাসরি উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর।
২. আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা:
আন্তর্জাতিক বাজারে যখন লোহার দাম বাড়ে, তখন দেশীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়ে। তবে শুল্ক কাঠামো স্থির থাকায় ব্যবসায়ীরা দাম সমন্বয় করতে হিমশিম খান। কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক নির্দিষ্ট কোনো অংকের পরিবর্তে যদি শতাংশ (Percentage) হিসেবে কমানো যায়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও স্থানীয় বাজারে দাম খুব বেশি বাড়বে না।
৩. আবাসন খাতের সংকট ও গ্রামীণ চাহিদা:
বাংলাদেশে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের ঘরের ছাদ মানেই ঢেউটিন। বর্তমানে নির্মাণ সামগ্রীর উচ্চমূল্যের কারণে অনেক সাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি সংস্কার করতে পারছেন না। শুল্ক কমিয়ে টিনের দাম কমানো গেলে:
৪. দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা:
আমদানি করা তৈরি টিনের চেয়ে দেশে উৎপাদিত টিনের ব্যবহার বাড়াতে কাঁচামালের ওপর শুল্ক ছাড় দেওয়া প্রয়োজন। এতে দেশীয় কারখানাগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে পারবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ব্যবসায়ীদের মতে, কাঁচামালে শুল্ক কমিয়ে ফিনিশড প্রোডাক্ট (তৈরি টিন) আমদানিতে উচ্চ শুল্ক বহাল রাখলে দেশীয় শিল্প লাভবান হবে।
৫. ডলারের দাম ও এলসি সংকট:
বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ডলারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কাঁচামাল আমদানির খরচ এমনিতেই বেড়ে গেছে। এর ওপর উচ্চ শুল্ক ভার হিসেবে কাজ করছে। শুল্ক কমানো হলে ডলারের বাড়তি খরচের কিছুটা ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।
মূল দাবিগুলো এক নজরে:
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, সরকার যদি কাঁচামালের ওপর শুল্ক মাত্র ৫-১০ শতাংশও কমায়, তবে প্রতি বান্ডিল টিনের দাম কয়েকশ টাকা পর্যন্ত কমে আসতে পারে।
Leave a Reply