২০২৬ সালে বাংলাদেশের কর ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য কিছু পরিবর্তন এসেছে। আপনি যদি জানতে চান এ বছর কারা সবচেয়ে বেশি ট্যাক্স রিফান্ড(Tax Refund) বা কর ফেরত পাচ্ছেন এবং কীভাবে পাচ্ছেন, তবে নিচের তথ্যগুলো আপনার জন্য সহায়ক হবে:
১. সবচেয়ে বেশি রিফান্ড কারা পাচ্ছেন?
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
এ বছর সাধারণত তারাই বেশি রিফান্ড পাচ্ছেন যারা বছরের শুরুতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স(AIT) বা সোর্স ট্যাক্স(TDS) জমা দিয়েছেন কিন্তু বছর শেষে বিনিয়োগের মাধ্যমে কর রেয়াত (Rebate) সুবিধা নিয়েছেন। বিশেষ করে:
- বড় বিনিয়োগকারী: যারা সঞ্চয়পত্র, জীবন বীমা, ডিপিএস (DPS) বা শেয়ার বাজারে (DSE) বড় অংকের বিনিয়োগ করেছেন।
- বেসরকারি চাকুরিজীবী: যাদের বেতন থেকে প্রতি মাসে বড় অংকের ট্যাক্স কেটে রাখা হয় (TDS), কিন্তু বছর শেষে তারা রেয়াতের জন্য যোগ্য বিনিয়োগের প্রমাণ দেখিয়েছেন।
- পারিবারিক বিশেষ ছাড় ভোগী: নারী করদাতা, ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বের প্রবীণ নাগরিক এবং তৃতীয় লিঙ্গের করদাতাদের জন্য এ বছর করমুক্ত আয়ের সীমা বেশি (৪,২৫,০০০ টাকা থেকে ৫,২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত)। ফলে তাদের অনেকেরই অগ্রিম কাটা কর রিফান্ড হিসেবে ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
- জুলাই ২০২৪ গণ–অভ্যুত্থানের আহত যোদ্ধা: এ বছর গেজেটভুক্ত ‘জুলাই যোদ্ধা’দের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৫,২৫,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা তাদের জন্য বড় সাশ্রয়।
২. কীভাবে সবচেয়ে বেশি রিফান্ড পাওয়া সম্ভব?
সবচেয়ে বেশি কর ফেরত বা সাশ্রয় পাওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো বিনিয়োগ রেয়াত। ২০২৫-২৬ করবর্ষের নিয়ম অনুযায়ী:
- বিনিয়োগের ক্ষেত্র: সঞ্চয়পত্র, জীবন বীমার প্রিমিয়াম, ডিপিএস (সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা), অনুমোদিত সরকারি বন্ড এবং তালিকাভুক্ত শেয়ার।
- রেয়াতের হার: আপনার মোট করযোগ্য আয়ের ২০% অথবা প্রকৃত বিনিয়োগ অথবা ১ কোটি টাকা—এই তিনটির মধ্যে যেটি কম, তার ওপর সাধারণত ১৫% হারে কর রেয়াত পাওয়া যায়।
- সঠিক হিসাব: যদি আপনার অগ্রিম কর (যেমন ব্যাংকের সুদ থেকে কাটা ট্যাক্স বা গাড়ির অগ্রিম ট্যাক্স) আপনার চূড়ান্ত কর দায় (Net Tax) অপেক্ষা বেশি হয়, তবেই আপনি সেই অতিরিক্ত টাকা রিফান্ড হিসেবে পাবেন।
৩. রিফান্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া (ধাপে ধাপে):
এনবিআর (NBR) এ বছর থেকে অনলাইন রিটার্ন সাবমিশন (e-Return) বাধ্যতামূলক করেছে। রিফান্ড পেতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
- অনলাইন পোর্টাল: www.etaxnbr.gov.bd পোর্টালে গিয়ে আপনার ই-টিআইএন (e-TIN) দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।
- সঠিক তথ্য প্রদান: আয়ের তথ্যের পাশাপাশি আপনার যাবতীয় অগ্রিম কর (AIT) এবং উৎস করের (TDS) তথ্য সঠিক চালানের নম্বরসহ প্রদান করুন।
- বিনিয়োগের প্রমাণ: বিনিয়োগের ঘরে আপনার সঞ্চয়পত্র বা বীমার তথ্য দিন। সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার রেয়াত হিসাব করে নেবে।
- রিফান্ড ক্লেইম: যদি আপনার পরিশোধিত কর বেশি হয়, তবে রিটার্ন ফর্মের শেষে ‘Refundable’ ঘরে টাকার অংক দেখাবে।
- অটোমেশন: এনবিআর জানিয়েছে এবার রিফান্ড প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য তারা অটোমেশন সিস্টেম ব্যবহার করছে। রিফান্ডের টাকা সরাসরি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (EFT) মাধ্যমে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ নোট:
- সময়সীমা: ২০২৫-২৬ করবর্ষের রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত করা হয়েছে।
- ন্যূনতম কর: ঢাকা ও চট্টগ্রামের সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ন্যূনতম কর ৫,০০০ টাকা। রিফান্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যেন আপনার কর দায় এই ন্যূনতম সীমার নিচে না নামে।
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
Leave a Reply