1. lawyermanik@gmail.com : legalaidbd :
March 3, 2026, 4:25 pm

প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে নয়, মার্কিন ঘাঁটিই হামলার লক্ষ্য: ইরান

  • Update Time : Tuesday, March 3, 2026
  • 54 Time View

ইরান সাম্প্রতিক সময়ে এক বিশেষ সামরিক পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ডে নয়, বরং সেখানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেই তাদের হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক কর্মকর্তারা এই অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

নিচে ইরানের এই অবস্থানের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:

নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী

. অভিযানের প্রেক্ষাপট ঘোষণা:

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায় (যাকে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ বলছে)। এর জবাবে ইরান ‘ট্রুথফুল প্রমিজ ৪’ (Truthful Promise 4) নামে পাল্টা হামলা শুরু করে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) স্পষ্ট করে জানায় যে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র নয়, বরং সেই দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং সামরিক সরঞ্জাম।

. কেন এই কৌশল?:

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে আলাপে জানিয়েছেন:

  • সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান: ইরান দাবি করছে তারা তাদের প্রতিবেশীদের ওপর হামলা করতে চায় না। তবে ওই দেশগুলো যদি তাদের ভূখণ্ড বা ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান আক্রমণে ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে সেই ঘাঁটিগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
  • মার্কিন আধিপত্য মোকাবিলা: ইরানের মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে হটিয়ে দেওয়া। তাদের মতে, এসব ঘাঁটিই আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার মূল কারণ।
  • চাপ প্রয়োগ: প্রতিবেশীদের ঘাঁটিতে আঘাত করার মাধ্যমে ইরান মূলত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারকে চাপের মুখে ফেলতে চায়, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারে বাধা দেয়।

. প্রধান লক্ষ্য বস্তু হওয়া ঘাঁটি সমূহ:

ইরান নির্দিষ্ট করে বেশ কিছু ঘাঁটির নাম উল্লেখ করেছে এবং সেগুলোতে হামলা চালিয়েছে:

  • বাহরাইন: মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম ফ্লিট (5th Fleet) সদর দপ্তর।
  • কাতার: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ঘাঁটি আল-উদেইদ (Al-Udeid)।
  • কুয়েত: আলী আল-সালেম (Ali Al-Salem) ও ক্যাম্প আরিফজান।
  • সংযুক্ত আরব আমিরাত: আল ধাফরা (Al Dhafra) বিমান ঘাঁটি।
  • জর্ডান ইরাক: মাওয়াফফাক আল সালতি ও আইন আল-আসাদ ঘাঁটি।

. সংঘর্ষ খয় ক্ষতি:

ইরান দাবি করেছে তারা কেবল সামরিক স্থাপনাই লক্ষ্য করেছে। তবে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বা ভুল লক্ষ্যভেদের কারণে কিছু বেসামরিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। যেমন:

  • কুয়েত ও দুবাই বিমানবন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্ট করার ফলে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
  • বাহরাইন ও আবুধাবিতে কিছু আবাসিক ভবনে ধ্বংসাবশেষ পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

. বর্তমান অবস্থা:

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের এই হামলাকে ‘বেপরোয়া’ বলে অভিহিত করেছে এবং পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আক্রমণ জোরদার করেছে। অন্যদিকে, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যদি সংঘাত আরও বাড়ে তবে তারা হরমুজ প্রণালী (বিশ্বের তেলের অন্যতম প্রধান রুট) বন্ধ করে দিতে পারে।

পরিশেষে, ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোকে এই বার্তা দিচ্ছে যে  এই যুদ্ধ আপনাদের বিরুদ্ধে নয়, বরং আমাদের ওপর আক্রমণকারী মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে।” তবে এই কৌশলটি কার্যকর হওয়ার চেয়ে পুরো অঞ্চলকে একটি ভয়াবহ যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 LegalAidBD
Theme Customized By BreakingNews
WhatsApp