আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া নাগরিক দায়িত্ব হলেও, সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক সময় সাধারণ মানুষ বিভিন্ন ধরনের “ফাঁদে” বা আইনি জটিলতায় পড়ে যান। বিশেষ করে বাংলাদেশে আয়কর আইন (আয়কর আইন ২০২৩) পরিবর্তনের পর অনেক নিয়ম বদলেছে।
আপনি অজান্তেই কোনো ভুল করছেন কি না, তা বুঝতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল করুন:
১. ভুয়া টিআইএন(TIN) ব্যবহার বা রিটার্ন না দেওয়া:
অনেকে মনে করেন টিআইএন করলেই হবে, রিটার্ন না দিলে সমস্যা নেই। কিন্তু বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যাদের টিআইএন আছে (কিছু বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া), তাদের জন্য রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। রিটার্ন না দিলে মোটা অংকের জরিমানা ও বিলম্বে জমার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর গুণতে হতে পারে।
২. আয়ের তথ্য গোপন করা:
এটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ। ব্যাংক ব্যালেন্স, শেয়ার বাজার, বা সঞ্চয়পত্রের মুনাফা গোপন করলে এনবিআর (NBR)-এর অটোমেটেড সিস্টেম তা ধরে ফেলতে পারে।
৩. ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও রিটার্নের তথ্যে অমিল:
আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সারা বছরে যে পরিমাণ লেনদেন হয়েছে, তার সঠিক হিসাব রিটার্নে না দেখালে আপনি অডিট বা স্ক্রুটিনির আওতায় পড়তে পারেন।
৪. লাইফস্টাইল বা জীবনযাত্রার ব্যয়ে অসামঞ্জস্য:
অনেকে কর বাঁচানোর জন্য বার্ষিক ব্যয় (Lifestyle expenses) খুব কম দেখান। কিন্তু আপনার আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় যদি অস্বাভাবিক কম বা বেশি হয়, তবে উপ-কর কমিশনার আপনার ফাইলটি পুনরায় খতিয়ে দেখার ক্ষমতা রাখেন।
৫. সম্পদ ও দায়ের বিবরণীতে (IT-10B) ভুল:
যদি আপনার নিট সম্পদের পরিমাণ ৫০ লক্ষ টাকার বেশি হয় বা আপনার একটি গাড়ি থাকে, তবে সম্পদ ও দায়ের বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এখানে স্থাবর সম্পত্তি (জমি/বাড়ি) বা অলঙ্কার ক্রয়ের তথ্য ভুল দিলে ভবিষ্যতে সেই সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তরের সময় আপনি আইনি মারপ্যাঁচে পড়বেন।
৬. তথাকথিত‘ট্যাক্স কনসালট্যান্ট‘ বাদালালের খপ্পর:
অনেকে ফুটপাতে বা সস্তায় রিটার্ন বানিয়ে দেওয়ার কথা বলে ভুল ফাইল জমা দেন।
ফাঁদ এড়াতে করণীয়:
Leave a Reply