1. lawyermanik@gmail.com : legalaidbd :
March 4, 2026, 8:20 pm
Title :

অর্থনীতি বাঁচাতে ট্যাক্স বাড়ানোর প্রস্তাব

  • Update Time : Wednesday, March 4, 2026
  • 63 Time View

একটি দেশের অর্থনীতি যখন সংকটের মুখে পড়ে, তখন সরকার সাধারণত রাজস্ব বাড়াতে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে ট্যাক্স বা কর বাড়ানোর পথে হাঁটে। তবে এটি একটি ‘দ্বিমুখী তলোয়ার’ সঠিকভাবে প্রয়োগ করলে অর্থনীতি বাঁচে, আর ভুলভাবে করলে জনমনে অসন্তোষ ও মন্দা তৈরি হতে পারে। ট্যাক্স বাড়ানোর প্রস্তাবগুলোকে সাধারণত কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:

. প্রত্যক্ষ কর (Direct Tax) বৃদ্ধি:

নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী

এটি সরাসরি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর বসানো হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো ধনীদের থেকে বেশি অর্থ সংগ্রহ করা।

  • প্রগতিশীল আয়কর (Progressive Income Tax): উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর করের হার বাড়িয়ে দেওয়া। যেমন: বছরে একটি নির্দিষ্ট সীমার ওপরে আয় করলে করের হার ২৫% থেকে বাড়িয়ে ৩০% করা।
  • কর্পোরেট কর বৃদ্ধি: লাভজনক বড় কোম্পানিগুলোর ওপর করের হার বাড়ানো। এটি সরকারের বড় অংকের রাজস্বের উৎস হতে পারে।
  • সম্পদ কর (Wealth Tax): যাদের বিশাল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি আছে, তাদের ওপর বার্ষিক একটি নির্দিষ্ট হারে কর আরোপ করা।

. পরোক্ষ কর(Indirect Tax) ভ্যাট(VAT):

এটি সাধারণত পণ্য বা সেবার ওপর বসানো হয়। এটি দ্রুত রাজস্ব আদায়ের সবচেয়ে সহজ উপায়।

  • বিলাসবহুল পণ্যে উচ্চ কর: গাড়ি, দামী ইলেকট্রনিক্স বা আমদানিকৃত লাক্সারি আইটেমের ওপর শুল্ক বাড়ানো। এতে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়ও হয়।
  • ভ্যাটের আওতা বাড়ানো: অনেক পণ্য যা আগে ভ্যাটের বাইরে ছিল, সেগুলোকে করের আওতায় আনা। তবে নিত্যপণ্যে ভ্যাট বাড়ালে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়।

. কর ফাঁকি রোধঅটোমেশন:

শুধুমাত্র করের হার বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, বরং যারা কর দিচ্ছেন না তাদের জালের আওতায় আনা জরুরি।

  • ডিজিটালাইজেশন: লেনদেন ডিজিটাল করলে কর ফাঁকি দেওয়া কঠিন হয়।
  • ট্যাক্স নেট সম্প্রসারণ: অনেক পেশাজীবী বা ব্যবসায়ী করযোগ্য আয় করলেও কর দেন না। তাদের শনাক্ত করে করের আওতায় আনা।

অর্থনীতিতে এর প্রভাব: ভালো মন্দ:

ইতিবাচক দিক (Pros)নেতিবাচক দিক (Cons)
বাজেট ঘাটতি হ্রাস: সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমে।ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস: মানুষের হাতে টাকা কম থাকায় বাজারে চাহিদা কমে যেতে পারে।
উন্নয়ন কাজে অর্থায়ন: শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোতে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ে।বিনিয়োগে নিরুৎসাহ: অতিরিক্ত করের কারণে ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগে ভয় পেতে পারেন।
বৈষম্য দূরীকরণ: ধনীদের থেকে নিয়ে গরিবদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।মুদ্রাস্ফীতি: ভ্যাট বাড়লে সরাসরি পণ্যের দাম বেড়ে যায়।

সারসংক্ষেপ: একটি ভারসাম্য পূর্ণ প্রস্তাব:

অর্থনীতি বাঁচাতে হলে কেবল কর বাড়ানোই সমাধান নয়, বরং ট্যাক্স টু জিডিপি’ (Tax-to-GDP ratio) রেশিও বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদদের মতে, এমনভাবে কর বাড়ানো উচিত যাতে নিম্নবিত্তের ওপর চাপ না পড়ে এবং ব্যবসার পরিবেশ নষ্ট না হয়। একই সাথে সরকারের উচিত অপচয় কমানো এবং আদায়কৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 LegalAidBD
Theme Customized By BreakingNews
WhatsApp