আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া। কিন্তু অনেক সময় সামান্য ভুল বা অসাবধানতার কারণে করদাতা আয়কর বিভাগ থেকে নোটিশ পেতে পারেন অথবা জরিমানার সম্মুখীন হতে পারেন।
আয়কর রিটার্নে সাধারণত যেসব ভুল বেশি হয়, তার একটি বিস্তারিত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
১. ব্যক্তিগত তথ্যে ভুল:
রিটার্ন ফরমের শুরুর দিকেই ব্যক্তিগত তথ্য থাকে, যেখানে সাধারণ কিছু ভুল প্রায়ই ঘটে:
- TIN নম্বর ও কর অঞ্চল: ভুল TIN নম্বর বা ভুল কর সার্কেল/অঞ্চল উল্লেখ করা।
- ব্যাংক হিসাবের তথ্য: ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নাম ও নম্বর সঠিক না হওয়া। রিফান্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি বড় সমস্যা তৈরি করে।
- ঠিকানা ও যোগাযোগ: বর্তমান ঠিকানা বা মোবাইল নম্বর ভুল দেওয়া, যার ফলে আয়কর অফিসের জরুরি চিঠি পৌঁছায় না।
২. আয়ের তথ্য গোপন বা এড়িয়ে যাওয়া:
সব ধরনের আয় প্রদর্শন না করা একটি বড় ভুল এবং এটি আইনি ঝুঁকির কারণ হতে পারে:
- ব্যাংক জমার সুদ: সঞ্চয়ী হিসাব, এফডিআর (FDR) বা ডিপিএস (DPS) থেকে প্রাপ্ত সুদ বা মুনাফা উল্লেখ না করা।
- লভ্যাংশ (Dividend): শেয়ার বাজার থেকে প্রাপ্ত ডিভিডেন্ডের তথ্য বাদ দেওয়া।
- উপহার: বন্ধু বা আত্মীয়র কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা উপহার হিসেবে নিলেও সেটি যথাযথভাবে না দেখানো।
- অন্যান্য উৎস: ফ্রিল্যান্সিং, পার্ট-টাইম কাজ বা গৃহ সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত আয়ের সঠিক হিসাব না দেওয়া।
৩. বিনিয়োগ জনিত কর রেয়াত(Tax Rebate) দাবিতে ভুল:
কর কমানোর জন্য বিনিয়োগের তথ্য দিতে গিয়ে অনেকে ভুল করেন:
- অপ্রমাণিত বিনিয়োগ: জীবন বীমার প্রিমিয়াম, সঞ্চয়পত্র বা ডিপিএস-এর কাগজপত্র ছাড়াই রেয়াত দাবি করা।
- সীমা লঙ্ঘন: সরকার নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি বিনিয়োগ প্রদর্শন করা।
- ভুল খাতে বিনিয়োগ: যেসব খাতে বিনিয়োগ করলে রেয়াত পাওয়া যায় না, সেসব খাত থেকে রেয়াত দাবি করা।
৪. পরিসম্পদ ও দায়(Asset & Liability) বিবরণীতে গরমিল:
আইটি-১০বি (IT-10B) ফর্মে সম্পদের হিসাব দিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল হয়:
- পারিবারিক খরচ: বার্ষিক জীবনযাত্রার ব্যয় (যেমন- খাবার, শিক্ষা, যাতায়াত) অনেক সময় আয়ের তুলনায় খুব কম বা খুব বেশি দেখানো হয়।
- সম্পদের ক্রয়মূল্য: সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য না লিখে ‘ক্রয়মূল্য’ লিখতে হয়, যা অনেকে ভুল করেন।
- স্বর্ণালঙ্কার বা ইলেকট্রনিক্স: বিয়ের সময় পাওয়া বা উপহার হিসেবে পাওয়া স্বর্ণের সঠিক হিসাব বা উৎস উল্লেখ না করা।
- নগদ টাকা: হাতে থাকা নগদ টাকার পরিমাণ আয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়া।
৫. উৎসে কর (TDS) সমন্বয়ে ভুল:
বেতন বা ব্যাংক সুদ থেকে ইতিমধ্যে যে কর কেটে রাখা হয়েছে, তার সঠিক তথ্য না দেওয়া:
- প্রমাণপত্রের অভাব: ব্যাংক বা অফিস থেকে TDS সার্টিফিকেট সংগ্রহ না করেই কর পরিশোধের দাবি করা।
- চালান নম্বর: অগ্রিম কর জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে চালান নম্বর বা তারিখ ভুল লেখা।
৬. স্বাক্ষর ও প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র না দেওয়া:
- স্বাক্ষর: রিটার্ন ফরমের নির্দিষ্ট স্থানে স্বাক্ষর করতে ভুলে যাওয়া।
- সংযুক্তি: বেতন বিবরণী (Salary Certificate), ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিনিয়োগের প্রমাণপত্র বা ভাড়ার রসিদ রিটার্নের সাথে জমা না দেওয়া।
ভুল এড়াতে কিছু জরুরি টিপস:
- চেকলিস্ট তৈরি করুন: রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে গত বছরের রিটার্নের কপি সাথে রাখুন।
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট: পুরো বছরের (জুলাই থেকে জুন) ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করুন।
- পেশাদার সাহায্য: জটিলতা মনে হলে একজন সনদপ্রাপ্ত ট্যাক্স কনসালট্যান্ট বা আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
- অনলাইন রিটার্ন: বর্তমানে অনলাইন রিটার্ন সিস্টেমে অনেক হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়, যা ভুলের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
Leave a Reply