সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ আসাদুজ্জামান (বা বর্তমান দায়িত্বরত অ্যাটর্নি জেনারেল) এই সিদ্ধান্তের পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি যুক্তি তুলে ধরেছেন।
নিচে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:
অ্যাটর্নি জেনারেলের মতে, এই রায়টি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন এবং ব্যাখ্যার সাথে জড়িত। হাইকোর্ট যখন কোনো মামলার রায়ে সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান করেন, তখন নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি আপিল বিভাগে যাওয়ার জন্য একটি ‘সার্টিফিকেট’ বা অনুমতি দিয়ে থাকেন। এই রায়ের ক্ষেত্রেও হাইকোর্ট তা দিয়েছেন, যার ফলে রাষ্ট্রপক্ষ সরাসরি আপিল করার সুযোগ পাচ্ছে।
২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের চূড়ান্ত রায় দিয়েছিলেন। রায়ে বলা হয়েছিল:
অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন যে, এই বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের যুক্তি হলো, যেহেতু এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক এবং নীতিনির্ধারণী পরিবর্তনের বিষয়, তাই আপিল বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়া এটি বাস্তবায়ন করা জটিল হতে পারে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের এই রায়ের কার্যকারিতা নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তা থেকে যায়।
হাইকোর্টের রায়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ (আইন মন্ত্রণালয়) থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করা। পৃথক সচিবালয় হলে বিচারকদের নিয়োগ, বদলি এবং শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়গুলো আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে না থেকে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের অধীনে চলে আসবে। রাষ্ট্রপক্ষ এই প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন এবং এর আইনি প্রক্রিয়াগুলো পুনরায় খতিয়ে দেখার জন্যই উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সারকথা: রাষ্ট্রপক্ষ মনে করছে, ১১৬ অনুচ্ছেদ বাতিল এবং নতুন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার মতো বড় সিদ্ধান্তগুলো দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ আপিল বিভাগ কর্তৃক চূড়ান্তভাবে পরীক্ষিত হওয়া প্রয়োজন। খুব শীঘ্রই এই আপিল আবেদনটি জমা দেওয়া হবে।
Leave a Reply