বাংলাদেশে সিমেন্ট শিল্পের উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন ধরেই কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর (Advance Income Tax – AIT) কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের মূল যুক্তি হলো, বর্তমানে যে হারে এআইটি দিতে হয়, তা ব্যবসার প্রকৃত মুনাফার তুলনায় অনেক বেশি এবং এটি ব্যবসার কার্যকরি মূলধনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
নিচে এই দাবির বিস্তারিত কারণ ও যৌক্তিকতা তুলে ধরা হলো:
বর্তমানে সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল (যেমন: ক্লিংকার, লাইমস্টোন, স্ল্যাগ, জিপসাম ও ফ্লাই অ্যাশ) আমদানিতে ৩% থেকে ৫% হারে অগ্রিম আয়কর দিতে হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম ও জাহাজ ভাড়া (Freight Charge) বাড়ার কারণে সিমেন্টের উৎপাদন খরচ এমনিতেই বেশি। এর ওপর উচ্চহারে অগ্রিম কর পণ্যের চূড়ান্ত দাম আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
উদ্যোক্তাদের দাবি, সিমেন্ট একটি উচ্চ বিনিয়োগের শিল্প যেখানে মুনাফার হার সাধারণত ২% থেকে ৩% এর বেশি হয় না। কিন্তু আমদানিতে ৩% বা তার বেশি এআইটি নেওয়া হচ্ছে। ফলে কোম্পানি যদি লোকসানেও থাকে, তবুও সরকারকে বড় অঙ্কের কর দিয়ে দিতে হচ্ছে।
ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির ফলে আমদানিতে খরচ অনেক বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করা উদ্যোক্তাদের জন্য বাড়তি আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (BCMA) সরকারের কাছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে:
সিমেন্ট শিল্প আবাসন ও অবকাঠামো খাতের মূল ভিত্তি। উদ্যোক্তাদের মতে:
সার সংক্ষেপ: সিমেন্ট উদ্যোক্তাদের দাবি হলো, অগ্রিম আয়কর ৩-৫% থেকে কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে আনা এবং এটিকে চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনা না করে প্রকৃত আয়ের সাথে সমন্বয় করার সুযোগ দেওয়া। এতে এই শিল্প টেকসই হবে এবং নির্মাণ খাতের স্থবিরতা কাটবে।
Leave a Reply