জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, কর ফাঁকিবাজদের তথ্য প্রদানকারীদের জন্য ‘Whistleblower’ বা ‘তথ্যদাতা‘ পুরস্কারের ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন।
এর বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
১. পুরস্কারের ঘোষণা (Whistleblower Programme):
এনবিআর জানিয়েছে যে, যারা কর ফাঁকি দেওয়া পণ্য (যেমন: নন-ট্যাক্স পেইড সিগারেট বা নকল পণ্য) অথবা আয়ের সঠিক তথ্য গোপনকারীদের ধরিয়ে দেবে, তাদের জন্য আর্থিক পুরস্কার বা প্রণোদনা থাকবে। এটি মূলত শুল্ক (Customs) ও ভ্যাট (VAT) ফাঁকি ধরার ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
২. কী ধরনের তথ্যে পুরস্কার পাওয়া যাবে?
সাধারণত নিচের ক্ষেত্রগুলোতে তথ্য দিলে পুরস্কারের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়:
- কর ফাঁকি (Tax Evasion): কেউ যদি প্রকৃত আয় গোপন করে বিশাল সম্পদ বা গাড়ি-বাড়ির মালিক হন।
- নকল বা শুল্কহীন পণ্য: বাজারে প্রচলিত নয় এমন বা কর ফাঁকি দিয়ে আসা পণ্যের গুদাম বা বিক্রির তথ্য।
- ভ্যাট ফাঁকি: বড় বড় শোরুম বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যদি ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট নিয়েও তা সরকারি কোষাগারে জমা না দেয়।
৩. কী ভাবে তথ্য দিতে হবে?
এনবিআর এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে আধুনিক করার জন্য বেশ কিছু প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নিয়েছে:
- মোবাইল অ্যাপ ও QR কোড: পণ্যের গায়ে থাকা QR কোড স্ক্যান করে সেটি আসল কি না বা কর দেওয়া হয়েছে কি না তা যাচাই করা যাবে এবং অ্যাপের মাধ্যমেই রিপোর্ট করা যাবে।
- গোয়েন্দা শাখা: এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (CIC) বা কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিরেক্টরেট (CIID) এর কাছে সরাসরি লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দেওয়া যায়।
- অনলাইন পোর্টাল: ভবিষ্যতে অভিযোগ জানানোর জন্য ডেডিকেটেড পোর্টাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
৪. পুরস্কারের পরিমাণ ও শর্ত:
- গোপনীয়তা: তথ্যদাতার পরিচয় কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়।
- পুরস্কারের অর্থ: সাধারণত উদ্ধারকৃত কর বা জরিমানার একটি নির্দিষ্ট শতাংশ (যেমন ১০-১৫% হতে পারে, যা নীতিমালার ওপর নির্ভরশীল) পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়। তবে এটি তখনই দেওয়া হয় যখন তথ্যটি সঠিক প্রমাণিত হয় এবং সেই টাকা সরকারি কোষাগারে আদায় হয়।
৫. নতুন সিস্টেম (২০২৬–২৭ অর্থ বছর থেকে):
আগামী অর্থবছর থেকে এনবিআর AI (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) ব্যবহার করে এবং বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (যেমন DPDC, DESCO) থেকে তথ্য নিয়ে বাড়িওয়ালারা বা সম্পদশালীরা ঠিকমতো কর দিচ্ছেন কি না তা যাচাই করবে। সাধারণ মানুষও এখানে সহযোগী হিসেবে কাজ করতে পারবে।
মনে রাখুন: তথ্য দেওয়ার সময় অবশ্যই আপনার কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ (যেমন: দলিল, রসিদ বা সঠিক ঠিকানা) থাকা প্রয়োজন। ভিত্তিহীন তথ্যের কারণে কেউ হয়রানির শিকার হলে তথ্যদাতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকে।
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
Leave a Reply