বাংলাদেশে কোম্পানি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আপনি আরও বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। মূলত ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর যৌক্তিক দাবি এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নিচে বর্ধিত সময়সীমা এবং এর আনুষঙ্গিক নিয়মাবলী সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
১. নতুন সময়সীমা ও পরিধি:
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে কোম্পানি করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে।
- বর্ধিত সময়: রিটার্ন জমার সময়সীমা ছিল ১৫ এপ্রিল এবং তা বাড়িয়ে ১৫ মে করা হয়েছে।
- প্রযোজ্যতা: এটি সকল পাবলিক ও প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির জন্য প্রযোজ্য। তবে মনে রাখবেন, এটি ব্যক্তি-শ্রেণির (Individual) করদাতাদের জন্য নয়।
২. কেন এই বাড়তি সময় দেওয়া হলো:
রাজস্ব বোর্ড মূলত তিনটি বিষয় বিবেচনা করেছে:
- অডিট রিপোর্টে বিলম্ব: কোম্পানিগুলোর আয়কর রিটার্নের সাথে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস (CA) ফার্ম কর্তৃক নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন (Audited Financial Statements) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। অনেক কোম্পানির এই নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে দেরি হওয়ায় তারা সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল।
- অনলাইন রিটার্ন সাবমিশন: এনবিআর বর্তমানে কোম্পানিগুলোর জন্য অনলাইন রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছে। অনেক করদাতা নতুন সিস্টেমে অভ্যস্ত হতে বাড়তি সময়ের প্রয়োজন বোধ করছিলেন।
- ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবি: এফবিসিসিআই (FBCCI) সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ব্যবসায়িক কার্যক্রমের স্থবিরতা ও নথিপত্র গোছানোর সুবিধার্থে সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিল।
৩. রিটার্ন দাখিলের প্রয়োজনীয় শর্তাবলী:
এই বাড়তি সুবিধা গ্রহণ করতে হলে কোম্পানিগুলোকে কিছু বিষয় নিশ্চিত করতে হবে:
- ট্যাক্স অডিট রিপোর্ট (TAR): রিটার্নের সাথে অবশ্যই অনুমোদিত অডিট রিপোর্ট থাকতে হবে।
- অনলাইন বনাম অফলাইন: যারা ই-রিটার্ন পোর্টালে নিবন্ধিত, তারা অনলাইনে জমা দিতে পারবেন। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলে ম্যানুয়ালি রিটার্ন জমা দিতে হবে।
- কর পরিশোধ: রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় প্রদেয় কর (যদি থাকে) নির্ধারিত চালানের মাধ্যমে বা অনলাইনে পরিশোধ করে তার প্রমাণ সংযুক্ত করতে হবে।
৪. বর্ধিত সময়ের পর কী হবে:
- আয়কর আইনের ধারা অনুযায়ী বিলম্বে জমা দেওয়ার জরিমানা (Penalty) আরোপিত হবে।
- বকেয়া করের ওপর মাসিক ভিত্তিতে বিলম্ব ফি বা সুদ গুণতে হতে পারে।
- রিবেট বা কর রেয়াতের সুবিধা আংশিক বা সম্পূর্ণ হারাতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনি যদি কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির রিটার্ন প্রস্তুত করে থাকেন, তবে শেষ দিনের ভিড় বা সার্ভার জটিলতা এড়াতে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করুন।
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
Leave a Reply