বাংলাদেশে টিন (TIN) সার্টিফিকেট বা কর নিবন্ধন বাতিল করার প্রক্রিয়াটি বেশ সুনির্দিষ্ট। সাধারণ করদাতাদের জন্য আয়কর আইন ২০২৩-এর আলোকে টিআইএন বাতিলের প্রধান নিয়মগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
মনে রাখা প্রয়োজন, একবার টিআইএন নম্বর জেনারেট হয়ে গেলে তা চাইলেই ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি’ডিলিট’ করা যায় না। এটি বাতিলের জন্য আপনাকে একটি বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
১. টিআইএন বাতিল করার প্রধান শর্তসমূহ:
নতুন আইন অনুযায়ী ৬টি নির্দিষ্ট কারণে একজন ব্যক্তি টিআইএন বাতিলের আবেদন করতে পারেন:
- রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা না থাকলে: যদি আপনার আয় করযোগ্য সীমার নিচে হয় এবং আপনার এমন কোনো কাজ (যেমন: গাড়ি কেনা বা ট্রেড লাইসেন্স) না থাকে যার জন্য টিআইএন বাধ্যতামূলক।
- স্থায়ীভাবে বিদেশ চলে গেলে: যদি আপনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন বা স্থায়ীভাবে বিদেশে চলে যান এবং বাংলাদেশে আপনার কোনো আয়ের উৎস না থাকে।
- মৃত্যু বা অবলুপ্তি: করদাতা মারা গেলে বা কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ/অবলুপ্ত হয়ে গেলে।
- ভুলবশত একাধিক টিআইএন: যদি আপনার নামে ভুলে একাধিক টিআইএন নম্বর খোলা হয়ে থাকে।
- আইনি মর্যাদা পরিবর্তন: ব্যক্তিগত থেকে প্রাতিষ্ঠানিক বা অন্য কোনো আইনি কাঠামোতে পরিবর্তন আসলে।
- অন্যান্য আইনানুগ কারণ: কমিশনার যদি মনে করেন করদাতার টিআইএন রাখার আর কোনো প্রয়োজন নেই।
২. টিআইএন বাতিলের ধাপসমূহ:
ধাপ ১: প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সংগ্রহ:
আবেদন করার আগে নিচের কাগজপত্রগুলো গুছিয়ে নিন:
- সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল বরাবর একটি লিখিত আবেদনপত্র (বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখসহ)।
- আপনার টিআইএন সার্টিফিকেটের কপি।
- সর্বশেষ দাখিলকৃত আয়কর রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (Acknowledgement Slip)।
- যদি আয় করযোগ্য না হয়, তবে বিগত কয়েক বছরের জিরো রিটার্ন জমার কপি।
- মৃত্যুজনিত কারণে হলে মৃত্যু সনদ; বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে পাসপোর্ট ও ভিসার কপি।
ধাপ২: কর সার্কেলে আবেদন জমা:
অনলাইনে আবেদন করার অপশন বর্তমানে সীমিত বা অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর নয়। তাই আপনাকে সশরীরে আপনার সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলে (Tax Zone/Circle) যেতে হবে।
- আপনার টিআইএন সার্টিফিকেটে কোন সার্কেল বা জোনের অধীনে আপনি নিবন্ধিত তা লেখা থাকে।
- সেখানের উপ-কর কমিশনার (Deputy Commissioner of Taxes – DCT) বরাবর লিখিত আবেদন জমা দিন।
ধাপ৩: কর কর্মকর্তার যাচাই ও শুনানি:
আপনার আবেদন জমা দেওয়ার পর কর কর্মকর্তা আপনার ফাইলটি পরীক্ষা করবেন। তারা দেখবেন:
- আপনার কোনো বকেয়া কর আছে কি না।
- আপনার কোনো কর মামলা চলমান আছে কি না।
- আপনার বাতিলের কারণটি যৌক্তিক কি না। প্রয়োজনে আপনাকে শুনানির জন্য ডাকা হতে পারে যেখানে আপনাকে প্রমাণ করতে হবে কেন আপনি আর করদাতা থাকতে চাচ্ছেন না।
ধাপ৪: টিআইএন নিষ্ক্রিয় করণ:
সবকিছু ঠিক থাকলে এবং কোনো বকেয়া না থাকলে, কর কর্মকর্তা আপনার টিআইএন নম্বরটি ডাটাবেজ থেকে স্থগিত বা বাতিল (Deactivate) করার আদেশ দেবেন।
৩. কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
- জিরো রিটার্ন: যদি আপনি কোনো কারণে টিআইএন বাতিল করতে না পারেন, তবে প্রতি বছর অনলাইনে জিরো রিটার্ন (Zero Return) দাখিল করা সবচেয়ে নিরাপদ। এতে আপনি জরিমানার হাত থেকে বেঁচে যাবেন।
- ভুল তথ্য দেবেন না: টিআইএন বাতিলের আবেদনে কোনো ভুল তথ্য দিলে আইনি জটিলতা হতে পারে।
- অনলাইন আপডেট: আপনি চাইলে এনবিআর-এর ওয়েবসাইটে (incometax.gov.bd) লগইন করে আপনার ঠিকানা বা সাধারণ তথ্য পরিবর্তন করতে পারেন, কিন্তু পূর্ণ বাতিলের জন্য আপনাকে অফিসে যোগাযোগ করতেই হবে।
সতর্কতা: টিআইএন থাকলে নিয়মিত রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনি যদি রিটার্ন জমা না দিয়ে শুধু টিআইএন ফেলে রাখেন, তবে বড় অংকের জরিমানা হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই হয় নিয়মিত রিটার্ন দিন, নয়তো যথাযথ প্রক্রিয়ায় এটি বাতিল করুন।
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
Leave a Reply