এনবিআরের নতুন সিদ্ধান্ত ব্যাংক লেনদেনে ট্যাক্স আনার পরিকল্পনা
Update Time :
Monday, April 13, 2026
67 Time View
ব্যাংক লেনদেনে সরাসরি নতুন কোনো কর বা “ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স” আনার বিষয়টি মূলত এনবিআরের ডিজিটাল রূপান্তর এবং রাজস্বের পরিধি বাড়ানোর একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনা থেকে এই বিষয়ে আরও কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে:
১. ব্যাংকিং খাতের সাথে ট্যাক্স সিস্টেমের অটোমেশন:
এনবিআরের মূল পরিকল্পনা হলো ব্যাংক ব্যবস্থার সাথে কর ব্যবস্থাকে সরাসরি যুক্ত করা। এতে দুটি সুবিধা হবে:
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
অটো–ফিল্ডরিটার্ন: করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সমাপনী স্থিতি (Closing Balance), বছর জুড়ে অর্জিত মুনাফা এবং এর ওপর কাটা উৎসে কর (TDS) সরাসরি আয়কর রিটার্ন ফরমে চলে আসবে। এতে তথ্য গোপন করার সুযোগ থাকবে না।
উৎসেকর (e-TDS) শক্তিশালীকরা: ব্যাংক সুদের ওপর বর্তমানে ১০-১৫% উৎসে কর কাটা হয়। কিন্তু অনেক উচ্চবিত্তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করের হার ৩০% পর্যন্ত হতে পারে। অটোমেশনের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে তথ্য নিয়ে এই বাড়তি কর সরাসরি আদায় করার পরিকল্পনা করছে এনবিআর।
২. ডিজিটাল লেনদেনে ছাড় ও ক্যাশ লেনদেনে কড়াকড়ি:
এনবিআর ব্যাংক লেনদেনকে উৎসাহিত করতে এবং নগদ টাকা ব্যবহার কমাতে কিছু নিয়ম করছে:
কর্পোরেটকরসুবিধা: যেসব কোম্পানি তাদের সব আয় ব্যাংক ট্রান্সফার বা ডিজিটাল মাধ্যমে গ্রহণ করবে, তাদের জন্য কর হার ২০% রাখা হয়েছে। আর যারা এটি করবে না, তাদের জন্য হার ২২.৫%।
ব্যয়বাখরচবাতিল: কোনো প্রতিষ্ঠান যদি তাদের মোট খরচের (বেতন ও কাঁচামাল বাদে) ৫০% এর বেশি ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে (নগদে) খরচ করে, তবে সেই খরচের ২৫% করযোগ্য আয় হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ নগদ লেনদেনে খরচ বেশি হবে।
৩. বড় অংকের লেনদেনে নজরদারি(Audit Trail):
এনবিআর মূলত বড় অংকের ব্যাংক লেনদেনের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে রাজস্ব আহরণ করতে চায়।
যারা ১ কোটি টাকার বেশি লেনদেন করেন কিন্তু রিটার্নে সম্পদ কম দেখান, ব্যাংকিং ডাটাবেজ ব্যবহার করে তাদের খুঁজে বের করা হবে।
বড় করদাতাদের (Corporate) জন্য বিকাশ বা নগদের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে বড় অংকের ট্যাক্স ও ভ্যাট পেমেন্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে লেনদেনের স্বচ্ছতা থাকে।
৪. ওয়েলথ ট্যাক্স ও উত্তরাধিকার কর(Inheritance Tax):
বর্তমানে ব্যাংকে জমানো টাকার ওপর যে সারচার্জ (Surcharge) আছে, তা বাতিল করে সরাসরি ‘ওয়েলথট্যাক্স‘ বা সম্পদ কর চালুর চিন্তা করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওপরও কর বসানোর প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে।
সংক্ষেপে এনবিআরের কৌশল:
ক্ষেত্র
পরিকল্পনা
সাধারণগ্রাহক
ডিজিটাল লেনদেনে কোনো নতুন বাড়তি কর নয়, বরং সহজ রিটার্ন জমার সুবিধা।
বড়আমানতকারী
ব্যাংক সুদের ওপর সঠিক হারে কর নিশ্চিত করা (TDS Integration)।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান
ক্যাশ লেনদেন করলে উচ্চ হারে কর, ব্যাংকের মাধ্যমে করলে কর ছাড়।
উচ্চবিত্ত
সারচার্জের বদলে ওয়েলথ ট্যাক্স বা সম্পদ কর প্রবর্তন।
পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন হলে কর ফাঁকি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে এবং ডিজিটাল লেনদেনকারী সাধারণ মানুষের জন্য কর জমা দেওয়া অনেক সহজ হবে। আপনি কি নির্দিষ্ট কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ওপর প্রযোজ্য বর্তমান ট্যাক্স বা আবগারি শুল্কের হার সম্পর্কে জানতে চান?
Leave a Reply