বাংলাদেশে রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এবং কর ফাঁকি রোধ করতে এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) স্বয়ংক্রিয় বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভ্যাট অডিট কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দেশের ৬০০ টি বড় প্রতিষ্ঠানকে এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে।
নিচে এই উদ্যোগের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
১. এই অডিট প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য:
ঐতিহ্যগতভাবে ভ্যাট অডিট করা হতো ম্যানুয়ালি, যেখানে দীর্ঘ সময় লাগত এবং তথ্যের গরমিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকত। স্বয়ংক্রিয় অডিট ব্যবস্থার মাধ্যমে:
- স্বচ্ছতা বৃদ্ধি: মানুষের হস্তক্ষেপ কমিয়ে সরাসরি সফটওয়্যারের মাধ্যমে হিসাব পরীক্ষা করা হবে।
- সময় সাশ্রয়: অডিট প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে।
- কর ফাঁকি শনাক্তকরণ: প্রতিষ্ঠানের সেলস এবং পারচেজ ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত ভ্যাট ফাঁকি দ্রুত ধরা পড়বে।
২. প্রতিষ্ঠান নির্বাচন (৬০০ প্রতিষ্ঠান):
এনবিআর মূলত সেইসব প্রতিষ্ঠানকে বেছে নিয়েছে যারা:
- বৃহৎ করদাতা ইউনিট (LTU): ব্যাংক, বীমা, মোবাইল অপারেটর এবং বড় বড় শিল্প কারখানা।
- যারা ইতিমধ্যে ইএফডি (EFD) বা নিজস্ব সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভ্যাট প্রদান করছে।
- যাদের বার্ষিক টার্নওভারের পরিমাণ অনেক বেশি এবং রাজস্বের প্রধান উৎস।
৩. অডিট কী ভাবে কাজ করবে:
স্বয়ংক্রিয় অডিট প্রক্রিয়াটি মূলত Vat Online Project (VOP) এর একটি অংশ। এর কার্যপদ্ধতি হবে নিম্নরূপ:
- ডেটা ইন্টিগ্রেশন: প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার বা ইআরপি (ERP) সিস্টেমের সাথে এনবিআরের সার্ভারের সরাসরি সংযোগ থাকবে।
- অডিট টুলস ব্যবহার: এনবিআর বিশেষায়িত অডিট সফটওয়্যার ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের দাখিলপত্র (Return) এবং প্রকৃত বেচাকেনার ডেটা মিলিয়ে দেখবে।
- ঝুঁকি ভিত্তিক নির্বাচন: যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের লেনদেনে অসঙ্গতি পাওয়া যায়, তবে সফটওয়্যারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ‘ফ্ল্যাগ’ বা সতর্কবার্তা দেবে।
৪. প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি:
যে ৬০০টি প্রতিষ্ঠান এই অডিটের আওতায় থাকছে, তাদের জন্য কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে:
- সফটওয়্যার কমপ্লায়েন্স: প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার অবশ্যই এনবিআর অনুমোদিত হতে হবে।
- সঠিক ডেটা এন্ট্রি: কাঁচামাল কেনা থেকে শুরু করে পণ্য বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ভ্যাট চালান (Mushak 6.3) সঠিকভাবে প্রদান করতে হবে।
- অনলাইনে রিটার্ন দাখিল: প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
৫. এর প্রভাব ও সুবিধা:
- হয়রানি হ্রাস: অডিট অফিসারদের ঘন ঘন অফিসে সশরীরে আসার প্রয়োজন কমে যাবে, যা ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করবে।
- রাজস্ব বৃদ্ধি: নির্ভুলভাবে ভ্যাট আদায় নিশ্চিত হবে, ফলে জাতীয় রাজস্ব বাড়বে।
- প্রতিযোগিতা মূলক বাজার: সব প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে ভ্যাট দিলে বাজারে অসম প্রতিযোগিতা দূর হবে।
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
Leave a Reply