করহার ০.৫ শতাংশে সীমিত রাখার প্রস্তাব নিত্যপণ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসায়
Update Time :
Saturday, April 4, 2026
65 Time View
নিত্যপণ্য, শিক্ষা এবং চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার ও অতি-প্রয়োজনীয় খাতগুলোতে করের হার ০.৫ শতাংশে (বা হাফ পারসেন্ট) নামিয়ে আনার প্রস্তাবটি মূলত সাধারণ মানুষের ওপর থেকে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক দাবি। নিচে এই প্রস্তাবের বিস্তারিত রূপরেখা ও এর যৌক্তিকতা তুলে ধরা হলো:
১. নিত্যপণ্যের ওপর কর (Commodity Tax):
দেশের বর্তমান বাজারে আমদানিকৃত এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নিত্যপণ্যের ওপর বিভিন্ন পর্যায়ে ভ্যাট ও শুল্ক মিলিয়ে ১০-১৫% পর্যন্ত কর বিদ্যমান থাকে। প্রস্তাবিত ০.৫% করহারের উদ্দেশ্য হলো:
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
দামনিয়ন্ত্রণ: চাল, ডাল, তেল, লবণ ও চিনির মতো পণ্যের আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ০.৫ শতাংশে আনলে খুচরা বাজারে পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
নিম্নআয়েরমানুষেরসুরক্ষা: আয়ের বড় একটি অংশ খাদ্যের পেছনে ব্যয় হয় এমন মানুষের জন্য এটি সরাসরি ভর্তুকির মতো কাজ করবে।
২. শিক্ষা খাতে কর (Tax on Education):
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বইপত্র এবং শিক্ষা উপকরণের ওপর আরোপিত উচ্চ কর শিক্ষার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। ০.৫% করহারের প্রস্তাবটি নিম্নরূপ প্রভাব ফেলবে:
শিক্ষাউপকরণেরসস্তাপ্রাপ্যতা: খাতা, কলম, ল্যাপটপ এবং বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির ওপর কর কমানো।
টিউশনফিহ্রাস: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর কর নামমাত্র পর্যায়ে আনলে শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফি বা টিউশন ফি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
ঝরেপড়ারোধ: শিক্ষার ব্যয় হাতের নাগালে থাকলে আর্থিক সংকটের কারণে মাঝপথে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার হার কমবে।
৩. চিকিৎসা খাতে কর (Tax on Healthcare):
জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর বর্তমানে উচ্চহারে কর দিতে হয়। ০.৫% করহারের প্রস্তাবটি যেভাবে কার্যকর হতে পারে:
ওষুধেরদাম: আমদানিকৃত কাঁচামাল এবং ওষুধের ওপর কর ০.৫ শতাংশে সীমিত করলে সাধারণ মানুষ কম দামে ওষুধ কিনতে পারবে।
ডায়াগনস্টিকখরচ: এক্স-রে, এমআরআই বা সিটি স্ক্যান মেশিনের মতো ভারী যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক কমালে প্যাথলজিক্যাল টেস্টের খরচ কমবে।
সার্জারিওসেবামূল্য: হাসপাতালের ওপর করের বোঝা কম থাকলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের জন্য উন্নত চিকিৎসা সেবা সহজলভ্য হবে।
কেন এই প্রস্তাবটি গুরুত্বপূর্ণ? (যৌক্তিকতা):
খাত
বর্তমান অবস্থা (গড়)
প্রস্তাবিত হার
সম্ভাব্য ফলাফল
নিত্যপণ্য
৫% – ১৫%
০.৫%
মূল্যস্ফীতি হ্রাস ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত।
শিক্ষা
১০% – ১৫%
০.৫%
মানসম্মত শিক্ষা সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়া।
চিকিৎসা
৫% – ২৫%
০.৫%
চিকিৎসার ব্যয় হ্রাস ও গড় আয়ু বৃদ্ধি।
বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও সমাধান:
এই বিশাল কর ছাড়ের ফলে সরকারের রাজস্ব আয়ে সাময়িক ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এই ঘাটতি পূরণে বিশেষজ্ঞরা নিচের পরামর্শগুলো দিয়ে থাকেন:
বিলাসবহুলপণ্যেকরবৃদ্ধি: দামী গাড়ি, প্রমোদভ্রমণ বা বিলাসী ইলেকট্রনিক্স পণ্যে করের হার বাড়ানো।
করফাঁকিরোধ: প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে কর ফাঁকি দেওয়া বন্ধ করা এবং ধনীদের ওপর প্রগতিশীল কর (Progressive Tax) আরোপ করা।
পাচারকৃতঅর্থউদ্ধার: বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে তা উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা।
সারকথা: নিত্যপণ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসায় ০.৫% করহারের প্রস্তাবটি মূলত একটি কল্যাণ কামী রাষ্ট্রের ধারণা থেকে এসেছে, যেখানে মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক চাহিদাকে ব্যবসার ঊর্ধ্বে রাখা হয়। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
Leave a Reply