1. lawyermanik@gmail.com : legalaidbd :
February 17, 2026, 11:19 pm

অনলাইন রিটার্নে শূন্য আয় দেখিয়েছে ৭০% করদাতা

  • Update Time : Tuesday, February 17, 2026
  • 46 Time View

বাংলাদেশে অনলাইন আয়কর রিটার্নে প্রায় ৭০% করদাতা “শূন্য আয়” বা শূন্য করযোগ্য আয় দেখানোর প্রবণতা এটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; কর কাঠামো, অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি ও ডিজিটাল কমপ্লায়েন্স সব কিছুর সাথে জড়িত। নিচে আরও গভীর বিশ্লেষণসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হল:

প্রাতিষ্ঠানিক প্রেক্ষাপট:

নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) ই-রিটার্ন চালুর পর টিআইএনধারীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সহজ হওয়ায় অনেকেই প্রথমবার রিটার্ন দিয়েছেন। কিন্তু নতুন ও বাধ্যতামূলক রিটার্নদাতাদের বড় অংশের করযোগ্য আয় বাস্তবে শূন্য বা সীমার নিচে ফলে এই উচ্চ শতাংশ দেখা যাচ্ছে।

 “শূন্য আয়বলতে কী বোঝায়?

দুইভাবে বিষয়টি ঘটে থাকতে পারে: মোট আয় আছে, কিন্তু করযোগ্য আয় শূন্য (করমুক্ত সীমার নিচে বা ছাড়–রেয়াতে কর শূন্য হয়েছে)
প্রকৃত আয়ই নেই (বেকার, শিক্ষার্থী, ব্যবসা বন্ধ ইত্যাদি) এই দুই ক্ষেত্র আলাদা কিন্তু পরিসংখ্যানে অনেক সময় একসাথে ধরা হয়।

গভীর কারণ বিশ্লেষণ:

) করমুক্ত সীমা নিম্ন আয়ের বাস্তবতা:

বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের বার্ষিক আয় করমুক্ত সীমার নিচে। গ্রাম  অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে আয়ের পরিমাণ কম ও অনিয়মিত।

) অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি বড়:

দেশের বড় অংশের লেনদেন নগদভিত্তিক। আয় থাকলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হয় না—ফলে রিটার্নে শূন্য বা কম আয় দেখানো হয়।

) টিআইএন বাধ্যতামূলক নীতির প্রভাব:

ব্যাংক ঋণ, গাড়ি/ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন, ট্রেড লাইসেন্স, ই-টেন্ডার, সঞ্চয়পত্র এসব কাজে টিআইএন লাগে। ফলে আয় না থাকলেও রিটার্ন জমা দিতে হয়।

) নতুন করদাতা বৃদ্ধিরস্ট্যাটিস্টিক্যাল ইফেক্ট”:

ই-রিটার্ন চালুর ফলে প্রথমবার রিটার্ন দেওয়া ব্যক্তির সংখ্যা বেড়েছে। নতুনদের বড় অংশের আয় কম ফলে মোট শতাংশে শূন্য আয়ের অংশ বেড়ে যায়।

) করভীতি জটিলতা:

কিছু ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ অডিট বা জটিলতার ভয় থেকেও প্রকৃত আয় কম দেখানোর প্রবণতা থাকতে পারে।

 আইনি ঝুঁকি বাস্তবতা:

  • প্রকৃত আয় গোপন করা আইনত দণ্ডনীয়।
  • ব্যাংক, ভূমি রেজিস্ট্রি, গাড়ি রেজিস্ট্রেশন, সঞ্চয়পত্র, আমদানি–রপ্তানি তথ্য এসবের সাথে ডাটা মিলিয়ে অসঙ্গতি শনাক্ত করা সম্ভব।
  • ভবিষ্যতে ডাটা অ্যানালিটিক্স বাড়লে ঝুঁকি আরও বাড়বে।

 অর্থনীতিতে প্রভাব:

) ট্যাক্সজিডিপি অনুপাত কম থাকে:

বাংলাদেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত উন্নয়নশীল অনেক দেশের তুলনায় কম এতে উন্নয়ন ব্যয় সীমিত হয়।

) করের ভার অসমভাবে পড়ে:

যারা নিয়মিত বেতনভুক্ত ও সোর্সে কর কাটা হয়, তাদের উপর তুলনামূলক বেশি চাপ পড়ে।

) নীতি নির্ধারণে তথ্য বিকৃতি:

আয়ের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট না হলে বাজেট পরিকল্পনা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সঠিকভাবে লক্ষ্যভিত্তিক করা কঠিন হয়।

সম্ভাব্য সমাধান:

✔ কর শিক্ষা ও সচেতনতা বাড়ানো
✔ রিটার্ন ফরম আরও সহজ ও প্রি-ফিলড করা
✔ তৃতীয় পক্ষের তথ্যভিত্তিক অটোমেশন জোরদার
✔ স্বল্প জরিমানায় স্বেচ্ছা সংশোধনের সুযোগ
✔ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় আনা

নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 LegalAidBD
Theme Customized By BreakingNews
WhatsApp