বাংলাদেশের উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট)গত ২৫–২৬জানুয়ারি ২০২৬ঢাকা-ভিত্তিক নির্মাণাধীন ও আংশিক সম্পন্ন ভবনগুলোর বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার বিষয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ (ইনজাংশ) জারি করেছেন। এতে বিস্তারিত নিয়ম ও কারণ নিচে মোটিভেটেড ভাবে ব্যাখ্যা করা হলো:
ছয় মাসের জন্য ক্ষমতাশালী কর্তৃপক্ষগুলোকে (যেমন ওয়াসা, রাজউক, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহকারী বিভাগ) নির্মাণাধীন ভবন গুলোর বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ: রিট মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন কিছুরই সংযোগ বন্ধ করা যাবে না।
আদেশটি একটি অন্তর্বর্তী কালীন নিষেধাজ্ঞা (interim injunction); অর্থাৎ পরে মামলার ন্যায়সম্মত সিদ্ধান্তের পূর্ব পর্যন্ত এই স্থিতি বজায় থাকবে।
এই আদেশ দেওয়া হয়েছিলো রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (REHAB) কর্তৃক দায়ের করা একটি রিট আবেদন (Writ Petition No. 21171/2025)-এর পরিপ্রেক্ষিতে।
আদালত বিবেচনা করেছে যে নির্মাণাধীন ভবনে বিদ্যুৎ, পানি বা গ্যাস যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করলে:
• নির্মাণ কাজ থেমে যেতে পারে, কাজ কারবারিক ক্ষতি হতে পারে।
• শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টরা বেকার হতে পারেন।
• ফ্ল্যাট হস্তান্তর, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ইত্যাদি নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়।
• বিশেষ করে আংশিক সম্পন্ন ভবনে বসবাসরত লোকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও মানবিক বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে আদালত মানবিক কারণ (humanitarian grounds) বিবেচনায় নিয়ে এবং স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য এই নির্বাহী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।
আগে গত বছর (২০২৫) গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে অনুমোদিত নকশা না মানলে রাজউক এলাকা নির্মাণাধীন ভবনগুলোর ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ওপরও আদালত কেন এটি আইনগত ভাবে বৈধ বা বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুলও (ইঙ্গিত প্রশ্ন) জারি করেন অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
✔ হাইকোর্ট ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছেন নির্মাণাধীন ভবনের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্নের কোনো কার্যক্রম।
✔এটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
✔ আদেশে মানবিক দিক, নির্মাণ খাতের অর্থনৈতিক প্রভাব ও সংশ্লিষ্টদের ক্ষতির আশঙ্কা বিবেচিত হয়েছে।
Leave a Reply