1. lawyermanik@gmail.com : legalaidbd :
February 13, 2026, 5:45 am

করদাতা মারা গেলেও যে কারনে কর দিতে হয়, কীভাবে দেওয়া হয়

  • Update Time : Monday, November 17, 2025
  • 180 Time View

করদাতা মারা গেলেও কেন কর দিতে হয় এবং কীভাবে তা পরিশোধ করতে হয় — নিচে সহজ ও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো।

 করদাতা মারা গেলে কেন কর দিতে হয়?

নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী

করদাতার মৃত্যু হলে তার জীবদ্দশার আয়ের যে কর বকেয়া ছিল বা যেসব সম্পদের ওপর কর/শুল্ক প্রযোজ্য, সেগুলো রাষ্ট্রের পাওনা হিসেবে থাকে। তাই আইন অনুযায়ী করদাতা মারা গেলেও—

 মৃত করদাতার ব্যক্তিগত কর দায় (Tax Liability) শূন্য হয়ে যায় না

তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি কর পরিশোধের জন্য দায়বদ্ধ থাকে।

 কারণ—

  1. মৃত ব্যক্তির সম্পদ উত্তরাধিকারীরা পান, কিন্তু তার দেনাও (যেমন কর-দায়) সম্পত্তি থেকে মিটিয়ে নিতে হয়।
  2. আদায়ের সময় সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তিত হলেও পূর্ববর্তী কর দায় বাতিল হয় না।
  3. যে বছর পর্যন্ত তিনি আয় করেছেন, সেই বছরের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হয়।
  4. অনেক ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের সম্পত্তি হস্তান্তর/মিউটেশন করতে হলে মৃত করদাতার কর-সনদ বা ক্লিয়ারেন্স লাগে।

 মারা যাওয়ার পর কর কীভাবে পরিশোধ করা হয়?

মৃত ব্যক্তির কর পরিশোধ ও রিটার্ন জমা দেওয়ার দায়িত্ব পড়ে

আইনগত উত্তরাধিকারী / সম্পত্তির অভিভাবক / Executor (যদি উইল থাকে)

নিচে প্রক্রিয়াটি দেওয়া হলো:

 . মৃত্যুপরবর্তী শেষ আয়কর রিটার্ন (Final Return) জমা দেওয়া:

মৃত করদাতা যেদিন মারা যান তার আগ পর্যন্ত যে আয় হয়েছে, তা হিসাব করে একটি চূড়ান্ত রিটার্ন (Final Return / Deceased Taxpayer Return) জমা দিতে হয়।

রিটার্ন জমা দিতে প্রয়োজন—

  • মৃত্যুসনদ
  • টিআইএন নম্বর
  • পূর্বের রিটার্নের কপি
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আয় সংক্রান্ত কাগজ
  • উত্তরাধিকারী/অভিভাবকের তথ্য ও স্বাক্ষর

 . বকেয়া কর থাকলে সেটি মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে পরিশোধ করতে হয়:

যেমন—

  • আয়কর
  • সম্পত্তি কর (যদি প্রযোজ্য)
  • ভূমি কর
  • উৎসে কর পরিশোধের অসামঞ্জস্য ইত্যাদি

উত্তরাধিকারীরা নিজের টাকা দিয়ে পরিশোধ করতে বাধ্য নয়,
কিন্তু তিরস্কৃত কর মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে পরিশোধ করেই সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায়।

 . সম্পত্তি বণ্টন/মিউটেশন করার আগে কর ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয়:

যে সম্পত্তি উত্তরাধিকারীরা পাবেন-

  • বাড়ি
  • জমি
  • ব্যবসার শেয়ার
  • ব্যাংক জমা
    এসব দাবি করতে গেলে কর-সংক্রান্ত কোনো ঝামেলা থাকলে পরিষ্কার করতে হয়।

এ কারণে “মৃত করদাতার কর সার্টিফিকেট” প্রয়োজন হয়।

 . উইল থাকলে Executor কর পরিশোধ করে:

উইলের Executor বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি:

  • রিটার্ন জমা
  • কর পরিশোধ
  • কর ছাড়/রিফান্ড দাবি
    সবকিছু করতে পারেন।

 . কর পরিশোধের পর কর দপ্তর “Tax Clearance Certificate” দেয়:

এটি দিয়ে—

  • জমির মিউটেশন
  • ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হস্তান্তর
  • ব্যবসার মালিকানা পরিবর্তন
    সহ বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন হয়।

 সারাংশ:

মৃত ব্যক্তির আয় ও সম্পত্তির দায় (Tax Liability) আইনগতভাবে টিকে থাকে।
এই দায় উত্তরাধিকারীরা নয়, বরং মৃত ব্যক্তির ছেড়ে যাওয়া সম্পত্তি বহন করে।
অতএব-

  1. চূড়ান্ত রিটার্ন জমা
  2. বকেয়া কর পরিশোধ
  3. ট্যাক্স ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহ
    এসব সম্পন্ন করেই উত্তরাধিকারীরা সম্পত্তি দখল বা হস্তান্তর করতে পারেন।
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 LegalAidBD
Theme Customized By BreakingNews
WhatsApp