1. lawyermanik@gmail.com : legalaidbd :
February 13, 2026, 7:07 am

একজন সরকারী চাকরীজীবী কীভাবে আয়করের হিসাব করবেন

  • Update Time : Sunday, November 16, 2025
  • 177 Time View

 বাংলাদেশের একজন সরকারি চাকরিজীবী কীভাবে আয়করের হিসাব করবেন তার বিস্তারিত, সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।

 . মোট Taxable Income নির্ধারণ:

নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী

সরকারি চাকরিজীবীর আয় সাধারণত কয়েকটি উৎস থেকে হয়:

(A) মোট বেতন (Gross Salary)

এর মধ্যে থাকে—

  • মূল বেতন (Basic Pay)
  • ঘর ভাড়া ভাতা (House Rent Allowance)
  • চিকিৎসা ভাতা (Medical Allowance)
  • উৎসব ভাতা (Festival Allowance)
  • বোনাস/ইনক্রিমেন্ট
  • অন্যান্য ভাতা (যদি থাকে)
  •  

(B) ট্যাক্সমুক্ত সুবিধা বাদ দেওয়া

কিছু সুবিধা আয়করের বাইরে, যেমন—

  • কনভেয়েন্স (যাতায়াত ভাতা) – মাসে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত
  • চিকিৎসা ভাতা – মাসে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত বা কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম
  • সরকারি গাড়ি থাকলে কিছু বিশেষ নিয়ম
  • পেনশন/জিপিএফ-এর সরকারী অংশ করমুক্ত

 এই করমুক্ত সুবিধাগুলো মোট আয় থেকে বাদ দিয়ে Taxable Income পাওয়া যায়।

. বিনিয়োগ কর রিবেট (Tax Rebate) গণনা:

বাংলাদেশে বিনিয়োগ কর রিবেট পাওয়া যায় (যেমন GPF, DPS, Life Insurance, Sanchaypatra ইত্যাদি)।

রিবেটের জন্য যোগ্য বিনিয়োগ সীমা:

  • মোট আয়ের ২০%, অথবা
  • সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা (যেটি কম হবে)

রিবেট রেট:

  • প্রথম ১০ লাখ টাকার উপর ১৫%
  • পরবর্তী ১০ লাখ টাকার উপর ১২%
  • তার বেশি হলে ১০%

 এই রিবেট মোট ট্যাক্স থেকে বাদ দেওয়া হয়।

 . করযোগ্য আয়ের উপর স্ল্যাব অনুযায়ী কর নির্ধারণ:

২০২৪-২৫অর্থবর্ষে ট্যাক্স স্ল্যাব (সাধারণ ব্যক্তি)

করযোগ্য আয় (টাকা)কর হার
প্রথম ,৫০,০০০ টাকা০%
পরবর্তী ,০০,০০০৫%
পরবর্তী ,০০,০০০১০%
পরবর্তী ,০০,০০০১৫%
পরবর্তী ,০০,০০০২০%
অতিরিক্ত আয়২৫%

বিশেষ ছাড়:

  • নারী/প্রবীণ/স্বাধীনতা সন্তান ইত্যাদির ক্ষেত্রে প্রথম স্ল্যাব ভিন্ন হতে পারে।

. সারচার্জ (Surcharge) প্রযোজ্য কিনা দেখা:

ব্যক্তির সম্পদ (Net wealth) নির্দিষ্ট সীমা ছাড়ালে সারচার্জ প্রযোজ্য।
অধিকাংশ সরকারি চাকরিজীবীর ক্ষেত্রে সাধারণত সারচার্জ পড়ে না।

 . উৎসে কর কর্তন (TDS) সামঞ্জস্যকরণ:

  • সরকারি অফিস প্রতি মাসে আপনার বেতনের নিরিখে টিডিএস (TDS) কেটে রাখে।
  • বছরের শেষে আপনাকে নিজে সার্বিক হিসাব করে ফাইনাল ট্যাক্স রিটার্ন দিতে হয়।

যদি বেশি কাটা হয় → রিফান্ড পাবেন।
কম কাটা হলে → অতিরিক্ত ট্যাক্স দিতে হবে।

 . ফাইনাল ট্যাক্স হিসাব: দ্রুত উদাহরণ:

ধরি—

  • মোট বেতন: ,০০,০০০ টাকা/বছর
  • করমুক্ত ভাতা: ,০০,০০০ টাকা
    ➡️ Taxable Income = ,০০,০০০ টাকা

স্ল্যাব অনুসারে কর:

  • প্রথম ৩,৫০,০০০ → কর = ০
  • বাকি ২,৫০,০০০ →
    • ১,০০,০০০ × ৫% = ৫,০০০
    • বাকি ১,৫০,০০০ → ১০% = ১৫,০০০
      ➡️ মোট কর = ২০,০০০ টাকা

যদি বিনিয়োগ রিবেট পাওয়া যায়:

ধরি বিনিয়োগ = ১,০০,০০০ টাকা
→ ১৫% রিবেট = ১৫,০০০ টাকা

➡️ চূড়ান্ত ট্যাক্স = ২০,০০০১৫,০০০ = ,০০০ টাকা

যদি অফিস ইতিমধ্যে ৬,০০০ টাকা কেটে থাকে →
➡️ ১,০০০ টাকা রিফান্ড পাবেন।

সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র:

সেলারি সার্টিফিকেট

  • ১০১, ১০২, ১০৫ নম্বর বিল (যদি প্রযোজ্য)
  • বিনিয়োগ প্রমাণপত্র (GPF, DPS, LIC ইত্যাদি)
  • TIN নম্বর
  • eReturn ফর্ম (অনলাইনে জমা দিতে পারেন)
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 LegalAidBD
Theme Customized By BreakingNews
WhatsApp