জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান সম্প্রতি সারচার্জ (Surcharge) বা তথাকথিত সম্পদ কর’ বিলুপ্ত করে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ সম্পদ কর (Wealth Tax) ব্যবস্থা চালুর ইঙ্গিত দিয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে পৃথক কোনো সম্পদ কর আইন নেই; বরং আয়করের সাথেই নিট সম্পদের ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে সারচার্জ আদায় করা হয়।
এই পরিবর্তনের মূল বিষয়গুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
১. সারচার্জ বনাম সম্পদ কর: পার্থক্য কী:
বর্তমান ব্যবস্থায় সারচার্জ সরাসরি সম্পদের ওপর নয়, বরং প্রদেয় আয়করের ওপর বাড়তি শতাংশ হিসেবে আরোপ করা হয়।
- বর্তমান পদ্ধতি (Surcharge): আপনার যদি ৩ কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকে, তবে আপনার মোট আয়করের একটি নির্দিষ্ট অংশ (যেমন ১০% বা ১৫%) সারচার্জ হিসেবে দিতে হয়। অর্থাৎ, আয় না থাকলে বা আয়কর শূন্য হলে সাধারণত সারচার্জ দিতে হয় না।
- প্রস্তাবিত পদ্ধতি (Wealth Tax): এটি সরাসরি ব্যক্তির নিট সম্পদের (Net Wealth) ওপর নির্দিষ্ট হারে ধার্য করা হবে। এতে আয়ের পরিমাণ যাই হোক না কেন, সম্পদের মূল্যমান একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে কর দিতে হবে।
২. কেন এই পরিবর্তনের চিন্তা:
এনবিআর চেয়ারম্যানের এই ভাবনার পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে:
- রাজস্ব বৃদ্ধি: সারচার্জ ব্যবস্থা থেকে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ তুলনামূলক কম। সরাসরি সম্পদ কর চালু করলে ধনীদের কাছ থেকে বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।
- বৈষম্য দূরীকরণ: অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কোনো ব্যক্তির অঢেল সম্পদ (জমি বা ফ্ল্যাট) আছে কিন্তু বার্ষিক আয় কম। বর্তমান ব্যবস্থায় তারা খুব কম কর দেন। সম্পদ কর চালু হলে এই ‘অনুৎপাদনশীল’ সম্পদের ওপর কর আদায় নিশ্চিত হবে।
- জটিলতা নিরসন: সারচার্জের হিসাব আয়করের সাথে যুক্ত থাকায় তা কিছুটা জটিল। পৃথক সম্পদ কর ব্যবস্থা থাকলে তা স্বচ্ছ ও সহজবোধ্য হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
৩. সারচার্জের বর্তমান হার (স্মারক হিসেবে):
বর্তমানে বাংলাদেশে সম্পদের ওপর সারচার্জের হার নিম্নরূপ (আয়করের ওপর ভিত্তি করে): সম্পদের পরিমাণ সারচার্জের হার:
৪ কোটি টাকা পর্যন্ত ০% (শূণ্য)
৪ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ১০%
১০ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ২০%
৫০ কোটি টাকার উর্ধ্বে ৩৫%
৪. সম্পদ কর ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ:
তবে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা বেশ চ্যালেঞ্জিং:
- সম্পদের মূল্যায়ন: জমি বা স্থাবর সম্পত্তির সঠিক বাজারমূল্য নির্ধারণ করা কঠিন। কারণ সরকারি মৌজা মূল্য এবং প্রকৃত বাজার মূল্যের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকে।
- দ্বৈত কর: একই ব্যক্তি আয়কর দিচ্ছেন, আবার সেই আয় দিয়ে কেনা সম্পদের ওপর পুনরায় কর দেওয়াকে অনেকে ‘দ্বৈত কর’ হিসেবে দেখেন।
- মূলধন পাচার: করের বোঝা বাড়লে ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে বিদেশে টাকা পাচারের প্রবণতা বাড়তে পারে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন।
শেষ কথা:
এনবিআর চেয়ারম্যানের এই বক্তব্য মূলত একটি সংস্কারের প্রস্তাব। এটি কার্যকর করতে হলে একটি নতুন আইন বা বিদ্যমান আয়কর আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। আগামী জাতীয় বাজেটে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট রূপরেখা পাওয়া যেতে পারে।
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
Leave a Reply