বাংলাদেশে আয়কর রিফান্ড বা ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়াটি সহজতর করার জন্য সরকার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু আধুনিক পদক্ষেপ নিয়েছে। আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে আগামী বছর থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি রিফান্ড পাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:
সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রিফান্ড(Direct Fund Transfer):
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
আগে আয়কর রিফান্ডের টাকা পেতে অনেক সময় চেকের ওপর নির্ভর করতে হতো, যা সংগ্রহ করা এবং ব্যাংকে জমা দেওয়া ছিল ঝামেলার। এখন ই–রিফান্ড (e-Refund) সিস্টেমের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল করা হচ্ছে।
- অটোমেটেড প্রক্রিয়া: করদাতা যখন অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেন, তখন যদি তার প্রদেয় করের চেয়ে অগ্রিম কর (AIT) বেশি কাটা থাকে, তবে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিফান্ডের আবেদন গ্রহণ করে।
- ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT): রিফান্ডের টাকা সরাসরি করদাতার সেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যাবে, যা তিনি তার আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করেছেন। এখানে কোনো কাগজের চেক বা সশরীরে অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
- স্বচ্ছতা: এই প্রক্রিয়ায় কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দুর্নীতির সুযোগ থাকে না, কারণ টাকা সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্লিয়ারিং হাউসের মাধ্যমে আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
রিফান্ড পাওয়ার শর্তাবলি:
আপনার আয়ের তুলনায় আগাম কর বেশি কাটা গেলেই আপনি রিফান্ড পাবেন। তবে এর জন্য কিছু বিষয় নিশ্চিত করতে হবে:
- অনলাইন রিটার্ন দাখিল: সরাসরি এবং দ্রুত রিফান্ড পেতে হলে আপনাকে ই–রিটার্ন (e-Return) পোর্টালে নিবন্ধন করে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে হবে।
- সঠিক ব্যাংক তথ্য: আপনার রিটার্ন ফরমে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নাম, নম্বর এবং রাউটিং নম্বর (Routing Number) নির্ভুলভাবে প্রদান করতে হবে।
- প্রমাণপত্র আপলোড: বেতন, সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক আমানত থেকে যে আগাম কর কাটা হয়েছে, তার সার্টিফিকেট বা প্রমাণপত্র রিটার্নের সাথে যুক্ত করতে হবে।
কেন এই উদ্যোগ:
সরকারের মূল লক্ষ্য হলো করদাতাদের হয়রানি কমানো এবং কর ব্যবস্থা ডিজিটালাইজ করা।
- ব্যক্তির আয় কমলে: যদি গত বছরের তুলনায় আপনার আয় কমে যায় কিন্তু বিভিন্ন উৎস থেকে (যেমন: সঞ্চয়পত্র বা গাড়ির ফি) বেশি কর কাটা থাকে, তবে সেই অতিরিক্ত অর্থ আপনার প্রাপ্য।
- দ্রুত নিষ্পত্তি: এনবিআর চেষ্টা করছে রিটার্ন প্রসেস হওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের (সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাস) মধ্যে যেন করদাতা টাকা পেয়ে যান।
মনে রাখার মতো কিছু বিষয়:
সতর্কতা: আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নাম যেন অবশ্যই আপনার টিআইএন (TIN) সার্টিফিকেটের নামের সাথে হুবহু মিল থাকে। নামের বানানে ভুল থাকলে রিফান্ড ট্রান্সফার সফল হবে না।
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
Leave a Reply