বাংলাদেশে কর সাশ্রয়ের জন্য বিনিয়োগের সঠিক সময় হলো অর্থবছরের শেষ তিন মাস (এপ্রিল, মে, জুন)। ২০২৫-২৬ করবর্ষের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, আপনি আপনার মোট আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিনিয়োগ করে ১৫% হারে কর রেয়াত(Tax Rebate) পেতে পারেন।
কর কমাতে কোথায় এবং কীভাবে বিনিয়োগ করবেন, তার একটি বিস্তারিত গাইড নিচে দেওয়া হলো:
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
১. কোথায় বিনিয়োগ করবেন? (অনুমোদিত খাতসমূহ):
বাংলাদেশে আয়কর আইন অনুযায়ী সব ধরনের বিনিয়োগে কর ছাড় পাওয়া যায় না। প্রধান ৫টি অনুমোদিত খাত হলো:
- সঞ্চয়পত্র (Savings Certificate): এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং নিরাপদ মাধ্যম। পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র বা ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে কর রেয়াত পাওয়া যায়।
- ডিপিএস (DPS): যেকোনো তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মাসিক সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা (বছরে ৬০,০০০ টাকা) পর্যন্ত ডিপিএস করলে সেই টাকার ওপর কর রেয়াত মিলবে।
- জীবন বীমা (Life Insurance): নিজের নামে বা স্বামী/স্ত্রীর নামে করা জীবন বীমার প্রিমিয়াম। তবে প্রিমিয়ামের পরিমাণ বীমা অংকের (Face Value) ১০% এর বেশি হতে পারবে না।
- শেয়ার বাজার (Stock Market): তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড বা সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ।
- সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ড: সরকারি কর্মচারী হলে সাধারণ প্রভিডেন্ট ফান্ড (GPF) এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে অনুমোদিত প্রভিডেন্ট ফান্ডে (Recognized Provident Fund) দান।
২. কত টাকা বিনিয়োগ করবেন? (হিসাব পদ্ধতি):
আপনার কত টাকা বিনিয়োগ করা উচিত তা তিনটি সীমার মধ্যে যেটি সবচেয়ে কম হবে, সেটির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়:
- আপনার মোট করযোগ্য আয়ের ২০%।
- আপনার প্রকৃত বিনিয়োগ (যা আপনি করেছেন)।
- সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা।
উদাহরণ: ধরুন আপনার বছরে মোট করযোগ্য আয় ১০ লক্ষ টাকা।
- আপনার বিনিয়োগের সীমা হবে ১০ লক্ষের ২০% = ২ লক্ষ টাকা।
- আপনি যদি ২ লক্ষ টাকা সঞ্চয়পত্র বা ডিপিএস-এ বিনিয়োগ করেন, তবে আপনি ২ লক্ষ টাকার ১৫% অর্থাৎ ৩০,০০০ টাকা সরাসরি আপনার প্রদেয় কর থেকে বিয়োগ করতে পারবেন।
৩. শেষ ৩ মাসের জন্য কার্যকরী কৌশল:
- ডিপিএস আপডেট: যদি আপনার কোনো ডিপিএস না থাকে, তবে জুন মাসের আগে একটি ডিপিএস খুলে কয়েক মাসের কিস্তি অগ্রিম জমা দিয়ে সীমার সুবিধা নিতে পারেন।
- সঞ্চয়পত্র কেনা: শেষ মুহূর্তে বড় অংকের টাকা হাতে থাকলে সঞ্চয়পত্র কেনা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ এটি একই সাথে নিরাপদ এবং লাভজনক।
- জীবন বীমা প্রিমিয়াম: যদি কোনো বীমা পলিসি থাকে এবং প্রিমিয়াম বাকি থাকে, তবে তা ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধ করুন।
- ট্রেজারি বন্ড: বর্তমানে ট্রেজারি বন্ডে ভালো মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে এবং এটি কর রেয়াতের জন্য একটি চমৎকার বিকল্প।
গুরুত্বপূর্ণ নোট:
৩০ জুনের মধ্যে বিনিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। বিনিয়োগের সব রশিদ (সঞ্চয়পত্রের কপি, ডিপিএস স্টেটমেন্ট বা বীমার প্রিমিয়াম রশিদ) যত্ন করে গুছিয়ে রাখুন, কারণ রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এগুলোর প্রমাণ প্রয়োজন হবে।
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
Leave a Reply