জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান সম্প্রতি এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় রাজস্ব আদায়ে ন্যায্যতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তার নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো হয়রানিমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা এবং দেশের রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা।
চেয়ারম্যানের নির্দেশনার বিস্তারিত দিকগুলো নিচে পরিপূর্ণভাবে তুলে ধরা হলো:
চেয়ারম্যান স্পষ্ট করেছেন যে, রাজস্ব আদায়ের নামে কোনো করদাতাকে অহেতুক হয়রানি করা যাবে না। তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন করদাতারা ভয়ে নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর প্রদান করেন।
রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে আইন যেন সবার জন্য সমানভাবে এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে প্রয়োগ করা হয়, সেদিকে নজর দিতে বলা হয়েছে।
ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতি কমাতে এনবিআরের পুরো ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ী এবং স্টেকহোল্ডারদের সাথে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান মনে করেন, করদাতাদের সাথে বৈরী সম্পর্ক রেখে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। বরং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান এবং তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনার কথা বলেছেন।
এনবিআর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের কেবল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিকে তাকালে চলবে না, বরং তাদের আচরণের মাধ্যমে এনবিআরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে হবে। যে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতি অনুসরণের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সারসংক্ষেপ: এনবিআর চেয়ারম্যানের মূল বার্তা হলো “রাজস্ব আদায় হবে আইনানুগ এবং মানবিক।” জোরপূর্বক বা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে নয়, বরং পদ্ধতিগত সংস্কার ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আহরণ সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
Leave a Reply