২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অর্থায়নে করের আওতা(Tax Net) বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি একটি পদক্ষেপ। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই বিষয়টির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের আলোকে করের আওতা বিস্তৃত করে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর বিস্তারিত রূপরেখা নিচে আলোচনা করা হলো:
বর্তমানে দেশের মোট জিডিপির তুলনায় করের অনুপাত (Tax-to-GDP ratio) অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় বেশ কম। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ বাড়ানো অপরিহার্য।
বাণিজ্যমন্ত্রী প্রধানত তিনটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে রাজস্ব আদায়ের পরিধি বাড়ানোর কথা বলেছেন:
প্রথাগত কর আদায় ব্যবস্থার পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা।
শহর এবং বিশেষ করে মফস্বল এলাকায় যারা কর দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন কিন্তু করের আওতায় নেই, তাদের খুঁজে বের করা।
মন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়ে, যারা কর দিচ্ছেন না তাদের করের আওতায় আনাই মূল লক্ষ্য। এতে ব্যবসার খরচ (Cost of Doing Business) কমবে এবং নতুন উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হবেন।
রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে যা কাটিয়ে ওঠা প্রয়োজন:
| চ্যালেঞ্জ | সম্ভাব্য সমাধান |
| জটিল কর আইন | আইনগুলোকে সহজবোধ্য এবং স্বচ্ছ করা। |
| দুর্নীতি ও হয়রানি | কর কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সরাসরি যোগাযোগ কমানো। |
| সচেতনতার অভাব | কর প্রদান যে নাগরিক দায়িত্ব, সে বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো। |
| অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি | ছোট ও মাঝারি ব্যবসাকে (SME) নিবন্ধনের আওতায় এনে বিশেষ সুবিধা প্রদান। |
বাণিজ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, রাজস্ব আহরণে গতি আসলে দেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়বে।
“রাজস্ব বাড়ানো কেবল সরকারি আয়ের বিষয় নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম চাবিকাঠি।”
Leave a Reply