উৎসে কর (Withholding Tax) ধীরে ধীরে প্রত্যাহার এই প্রস্তাবটা সাধারণত তখনই আসে, যখন সরকার ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ চায়, করব্যবস্থা সহজ করতে চায়, বা করের ন্যায্যতা বাড়াতে চায়। নিচে বিষয়টা কেন, কীভাবে, আর কী ঝুঁকি সুযোগ আছে সব দিক থেকে বিস্তারিত আলোচনা করা হল:-
১) উৎসে কর কী এবং কেন সমস্যা হয়:
উৎসে কর মানে আয় হওয়ার আগেই বা আয় হওয়ার মুহূর্তে কর কেটেনেওয়া।
এটা সরকারের জন্য সুবিধাজনক, কিন্তু করদাতার জন্য কয়েকটা সমস্যা তৈরি করে
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
- নগদ প্রবাহে চাপ: ব্যবসায়ীর হাতে টাকার ঘাটতি হয়।
- আসল করের চেয়ে বেশি কাটা পড়ে (বিশেষ করে ক্ষতিতে থাকা ব্যবসায়)
- রিফান্ড পেতে ঝামেলা ও দেরি।
- ছোট ও মাঝারি ব্যবসার জন্য ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
২) ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের যুক্তি:
একবারে তুলে দিলে রাজস্ব ঝুঁকি থাকে, তাই ধাপে ধাপে করাই বাস্তব সম্মত।
মূল যুক্তিগুলো:
- কর ব্যবস্থাকে আয়ভিত্তিক ও ন্যায্য করা
- ব্যবসা ও বিনিয়োগে গতি আনা
- করদাতাকে স্বেচ্ছায় কর দিতে উৎসাহিত করা
- কর প্রশাসনের ওপর রিফান্ডের চাপ কমানো
৩) ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের বা স্তব কৌশল:
ধাপ ১: খাত ভিত্তিক ছাড়:
সব খাত একসাথে না করে:-
- রপ্তানিমুখী শিল্প
- কৃষি-প্রক্রিয়াজাত শিল্প
- আইটি ও স্টার্টআপ
- ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (SME)
এই খাতগুলোতে আগে উৎসে কর কমানো বা তুলে নেওয়া।
ধাপ২: হার কমানো (Rate Reduction):
পুরো তুলে নেওয়ার আগে-
- ৫% → ৩% → ১% → শূন্য
এভাবে ২–৩ বছরের মধ্যে ধীরে নামানো।
ধাপ৩: প্রকৃত করদাতাদের অব্যাহতি:
যারা—
- নিয়মিত রিটার্ন দেয়
- ডিজিটাল হিসাব রাখে
- আগের কর বকেয়া নেই
তাদের জন্য উৎসে কর থেকে অব্যাহতি সনদ সহজ করা।
ধাপ৪: ন্যূনতম আয় সীমা নির্ধারণ:
একটা নির্দিষ্ট সীমার নিচে আয় হলে-
- উৎসে কর কাটা হবে না।
এতে ছোট ব্যবসায়ীরা স্বস্তি পায়।
৪) বিকল্প ব্যবস্থা (উৎসে কর না কলে):
উৎসে কর কমালে রাজস্ব ধরে রাখতে দরকার:-
- ডিজিটাল ইনভয়েস ও হিসাব
- ব্যাংক ও এনবিআরের মধ্যে ডাটা শেয়ারিং
- ঝুঁকিভিত্তিক অডিট (Risk-based Audit)
- রিটার্ন না দিলে কঠোর কিন্তু টার্গেটেড ব্যবস্থা
৫) সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সমাধান:
ঝুঁকি:
- স্বল্পমেয়াদে রাজস্ব কমে যেতে পারে
- কর ফাঁকির চেষ্টা বাড়তে পারে
সমাধান:
- ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন
- শক্তিশালী আইটি সিস্টেম
- কর সচেতনতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি
৬) প্রত্যাশিত সুফল:
- ব্যবসার খরচ কমবে
- বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে
- করদাতার আস্থা বাড়বে
- দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব বরং বাড়তে পারে
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
Leave a Reply