1. lawyermanik@gmail.com : legalaidbd :
February 7, 2026, 10:48 pm

৫০% কমানোর সুপারিশ ফ্ল্যাট ও জমির নিবন্ধন খরচে

  • Update Time : Saturday, February 7, 2026
  • 36 Time View

ভূমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন খরচ ৫০% কমানোর সুপারিশ-র পেছনের প্রেক্ষাপট, কীভাবে হবে এবং কেন এই প্রস্তাব এসেছে তা সংক্ষেপে ব্যাখ্যা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হল:

 সুপারিশটি কোন কমিটি করেছে?

  • জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটি (National Tax Structure Reorganization Committee) এই সুপারিশ করেছে।
  • কমিটি সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রীর নীতিনির্ধারক প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার, যারা প্রধানমন্ত্রী প্রধান বিশেষ উপদেষ্টা/চিফ অ্যাডভাইজারকে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন।

 . বর্তমানে নিবন্ধন খরচ কেমন?

বাংলাদেশে জমি বা ফ্ল্যাট কেনার সময় বর্তমান নিবন্ধন খরচের উপাদানগুলো সাধারণত নিম্নরূপ:
✔রেজিস্ট্রেশন ফি(১%)
✔স্ট্যাম্প ডিউটি(১.৫%)
✔ স্থানীয় সরকার/কর(২-৩%)
✔ উৎসে আয়কর/ট্যাক্স(৩% থেকে ৫% বা এর বেশি)
✔ ভ্যাট(২%-৪.৫%)
 ফলে সাধারণ শহরে মোট নিবন্ধন খরচ প্রায় ১২.৫%-১৫% পর্যন্ত দাঁড়ায়।

নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী

যেমন:
 ঢাকা মহানগরে ১ কোটি টাকার সম্পত্তি নিবন্ধন করলে প্রায় ১২.৫ লাখ টাকার খরচ হয়।

 ৫০% কমানোর প্রস্তাবের মূল উপাদান:

 নিবন্ধন খরচ ৫০% কমানো:-

  • কমিটি প্রস্তাব করেছে বর্তমান মোট নিবন্ধন খরচকে একেবারে ৫০% কমানো।
  • অর্থাৎ যদি বর্তমানে খরচ ~১২.৫% হয়, তাহলে সেটিকে ৬-৭% বা তার নীচে নেয়ার প্রস্তাব।
  • এটি স্ট্যাম্প ডিউটি, রেজিস্ট্রেশন ফি, স্থানীয় কর, উৎসে আয়কর ও ভ্যাট সহ সম্পূর্ণ খরচে প্রযোজ্য হবে।

 উপহার হিসেবে সম্পত্তি হস্তান্তরে ও করের পরিবর্তন:

  • রিপোর্টে সুপারিশ করা হয়েছে যে মোবাইল বা স্থাবর সম্পত্তি উপহার দিলে ১% কর ধার্য করা  যেখানে বর্তমানে এমন স্থানান্তরে কারো কর দেয়ার বাধ্যবাধকতা নেই (যেমন: বাবা-মা থেকে শিশু, ভাই/বোন ইত্যাদি ক্ষেত্রে)।

 কেন এই সুপারিশ এসেছে?

সুপারিশের পেছনে কয়েকটি মৌলিক কারণ রয়েছে:

 নিবন্ধন খরচ অনেক বেশি:

বর্তমানে বাংলাদেশে সম্পত্তি নিবন্ধন খরচ অপেক্ষাকৃত বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতা/বিক্রেতা মানহানিকর ভাবে দলিল মূল্যের নিচে বা“কাগজের দাম” লিখে নিবন্ধন করেন, যাতে ট্যাক্স কম পড়ে। ফলে:

  • সরকারে আয় কম হয়
  • সত্যিকারের বাজার মূল্যে লেনদেন কম হয়
  • অফিসিয়াল রেকর্ড ও রাজস্ব সিস্টেম কম কার্যকর হয়

 নিবন্ধনের খরচ কম হলে:

 সম্পত্তির বাস্তব বাজার মূল্যে নিবন্ধন করার প্রবণতা বাড়বে
 গোপন (অনিয়মে) লেনদেন কমে যাবে
 রাজস্ব আয় দীর্ঘমেয়াদে বৃদ্ধি পেতে পারে
 রিয়েল এস্টেট সেক্টরে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে

এজন্য অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন কর কমিয়ে নিবন্ধনকে সহজও অর্থনীতিকে স্বচ্ছ করা যেতে পারে, ফলে সরকারের আয়ও বাড়তে পারে (বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন বৃদ্ধি ও অফিশিয়াল রেকর্ডের উন্নত হওয়া)।

 সুপারিশ বা স্তবায়নের চ্যালেঞ্জ:

যদিও সুপারিশটি অনেক পক্ষ থেকে সকারাত্মক বলা হচ্ছে, তবে বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে:

  • বাজেট আয় ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকার কর আদায়ের অন্যান্য উপাদান বজায় রাখতে পারে বা নতুন কর বসাতে পারে।
  • সম্পত্তি বাজারে কর হ্রাস হলেও ট্যাক্স অধিকারী প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও রেট নির্ধারণ পদ্ধতি পরিবর্তনের কাজ দ্রুত করতে হবে
  • অনিয়ম ও দুর্নীতি পূর্বের মতো থাকলে, কম খরচেও সত্যিকারের মূল্য বিবেচনায় না আসতে পারে।

সারসংক্ষেপ:

বিষয়বর্তমানসুপারিশ
মোট নিবন্ধন খরচ~১২.৫-১৫%প্রায় ৫০% কম
উপহার সম্পত্তি করবর্তমানে নেই১% কর প্রস্তাব
উদ্দেশ্যরাজস্ব বাড়ানো ও স্বচ্ছতাসত্যিকারের নিবন্ধন উৎসাহিত করা
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 LegalAidBD
Theme Customized By BreakingNews
WhatsApp