২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫–২০ শতাংশে উন্নীত করার জন্য সাধারণত যে নীতি ও কাঠামোগত সুপারিশগুলো দেওয়া হয়, সেগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরছি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতির বাস্তবতা মাথায় রেখে বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হল:
১. করভিত্তি(Tax Base) ব্যাপক ভাবে সম্প্রসারণ:
বর্তমানে করদাতার সংখ্যা জিডিপির তুলনায় খুবই কম। তাই
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
- নতুন করদাতা শনাক্তকরণ:
- NID, TIN, ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ সব ডাটাবেজ আন্তঃসংযোগ
- অনানুষ্ঠানিক খাতকে ধীরে ধীরে করের আওতায় আনা
- ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য সহজ ও স্বল্প হারে কর
- পেশাজীবী ও উচ্চ আয়ের স্ব-কর্মসংস্থানের ওপর নজর
- ডাক্তার, আইনজীবী, কনসালট্যান্ট, অনলাইন উদ্যোক্তা
লক্ষ্য: করদাতার সংখ্যা ৩–৪ গুণ বৃদ্ধি
২. কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন ওডিজিটাল রূপান্তর:
করহার বাড়ানো নয়, বরং কর আদায় দক্ষতা বাড়ানোই মূল চাবিকাঠি।
- সম্পূর্ণ অটোমেশন:
- e-filing, e-payment, e-assessment বাধ্যতামূলক করা
- AI ও ডাটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার:
- ঝুঁকিভিত্তিক অডিট (risk-based audit)
- মানবিক হয়রানি কমানো:
- face-to-face যোগাযোগ কমিয়ে সিস্টেমভিত্তিক মূল্যায়ন
ফল: ফাঁকি কমবে, স্বেচ্ছা কর পরিশোধ বাড়বে
৩. কর ফাঁকি ও অবৈধ অর্থ প্রবাহ কঠোরভাবে দমন:
- ট্রান্সফার প্রাইসিং ও আন্ডার-ইনভয়েসিং নিয়ন্ত্রণ
- অপ্রদর্শিত আয় সনাক্তে জীবনযাত্রা ব্যয় বিশ্লেষণ
- কালো টাকা সাদা করার সুযোগ ধীরে ধীরে বন্ধ
- শাস্তির বাস্তব প্রয়োগ (জরিমানা ও মামলা দুটোই)
বার্তা পরিষ্কার হতে হবে: ফাঁকি দিলে ছাড় নেই
৪. ভ্যাট ব্যবস্থা সংস্কার:
ভ্যাট বড় রাজস্ব উৎস হলেও এখনও পুরো সম্ভাবনা কাজে লাগেনি।
- একক ভ্যাট হার ও সীমিত অব্যাহতি
- ভ্যাট চেইন সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা
- খুচরা ও সেবা খাতে ভ্যাট আদায় জোরদার
- ছোট ব্যবসার জন্য টার্নওভার ট্যাক্স সহজ করা
লক্ষ্য: ভ্যাট-জিডিপি অনুপাত ২–৩ শতাংশ পয়েন্ট বাড়ানো
৫. কর প্রণোদনা ওছাড় যৌক্তিকী করণ:
- অপ্রয়োজনীয় ট্যাক্স হলিডে ও কর ছাড় ধাপে ধাপে প্রত্যাহার
- শুধুমাত্র
- সবুজ শিল্প
এই খাতে টার্গেটেড ও সময়সীমাবদ্ধ প্রণোদনা
এতে রাজস্ব ক্ষতি কমবে, বিনিয়োগও থাকবে
৬. প্রত্যক্ষ করের অংশবৃদ্ধি:
বর্তমানে পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরতা বেশি।
- প্রগতিশীল আয়কর কাঠামো
- সম্পদ কর (wealth/property tax) শক্তিশালী করা
- উত্তরাধিকার ও ক্যাপিটাল গেইন কর বাস্তবায়ন
সামাজিক ন্যায্যতা + টেকসই রাজস্ব
৭. স্থানীয় সরকারকে কর ক্ষমতায়ন:
- পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে
- কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ কমবে
৮. কর নৈতিকতা ও জন আস্থা তৈরি:
মানুষ কর দিতে চায় তখনই, যখন দেখে
- করের টাকা দুর্নীতিতে যাচ্ছে না
- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোতে দৃশ্যমান সুফল আছে
- বাজেট ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
কর সংস্কার = আস্থা সংস্কার
সারসংক্ষেপে:
২০৩৫ সালে ১৫–২০% কর-জিডিপি অর্জন করতে হলে
- করহার নয়, কর কাঠামো বদলাতে হবে
- প্রযুক্তি + ন্যায়সংগত আইন প্রয়োগ + রাজনৈতিক সদিচ্ছা এই তিনটি একসাথে দরকার
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
Leave a Reply