বাংলাদেশে একজন শিক্ষক কীভাবে আয় করের হিসাব করবেন এটা সহজ ভাবে বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হল:
১) করবর্ষ ওবেতন–আয়ের সময় সীমা:
বাংলাদেশে আয়কর সাধারণত ১ জুলাই থেকে পরের বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়কালের (করবর্ষ) ওপর হিসাব করা হয়। যেমন: ২০২৬-২৭ করবর্ষে আপনি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত আয় বিবেচনা করবেন।
২) মোট আয় (Gross Income) নির্ধারণ:
শিক্ষক হিসাবে আপনার মোট আয়ের মধ্যে যা যা ধরা হবে:
মূল বেতন
হাউস রেন্ট
ভাতা/ইনক্রিমেন্ট
বোনাস
অন্যান্য করযোগ্য সুবিধা/ভাতা
অন্য উৎস থেকে আয় (যদি থাকে)
সবগুলো যোগ করলে আপনার মোট আয় পাওয়া যাবে।
৩) কর যোগ্য আয় বের করা:
মোট আয় থেকে নীচের ছাড়/ডিডাকশন বাদ দিলে যা বাকি থাকে তাকে করযোগ্য আয় (Taxable Income) বলা হয়:
সাধারণ বেতনভোগীদের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় থাকতে পারে:
হাউস ভাড়া/হাউস রেন্ট আলাউন্সের কিছু অংশ (কর আইনের নিয়ম অনুযায়ী)
স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বা নির্দিষ্ট বিনিয়োগ/বীমার ডিডাকশন (আইনে অনুমোদিত) এগুলো বাদ দিলে করযোগ্য আয় বের হবে।
৪) করের স্ল্যাব(Tax Slabs) প্রয়োগ করা:
২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য সাধারণ ব্যক্তির ইনকাম-ট্যাক্স স্ল্যাব (প্রগতিশীল হিসাব):
| বার্ষিক করযোগ্য আয় (BDT) | করের হার (Tax Rate): |
| প্রথম ৩৭৫,০০০ টাকা | 0% (শূন্য) |
| পরের ৩০০,০০০ টাকা | 10% |
| পরের ৪০০,০০০ টাকা | 15% |
| পরের ৫০০,০০০ টাকা | 20% |
| পরের ২,০০০,০০০ টাকা | 25% |
| এর বেশি আয় | 30% |
অর্থাৎ, আপনার আয় যত বাড়বে, করের হারও ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পাবে।
৫) করের হিসাব (Tax Calculation):
ধরি একজন শিক্ষকের বার্ষিক করযোগ্য আয় = ১,০০,০০০০ টাকা (১০ লাখ):
মোট আয়কর = ৩০,০০০ + ৪৮,৭৫০ ≈ ৭৮,৭৫০ টাকা
৬) কর রেয়াত ও অন্যান্য ছাড়:
কিছু ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী রেয়াত/ ছাড় পাওয়া যায়, যেমন:
পেশাগত খরচ
বিনিয়োগ/বীমা/দান ইত্যাদি (আইনি ধারায়)
বিশেষ শ্রেণির করদাতাদের বাড়তি ছাড় (যেমন প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ইত্যাদি)
এগুলো আপনার মোট কর থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে, ফলে কর কম হবে।
৭) আয় কর রিটার্ন দাখিল:
যদি আপনার আয় ট্যাক্স-নির্ধারিত সীমা (যেমন ৩৭৫,০০০ (BDT) ছাড়িয়ে যায়, তাহলে আনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে হয় এটি বাধ্যতামূলক। সরকারি এবং বেসরকারি শিক্ষক উভয়ের ক্ষেত্রেই রিটার্ন পূরণ করতে হয়।
সংক্ষেপে ধাপগুলো:
Leave a Reply