বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে এলপি (Liquefied Petroleum) গ্যাসের উপর ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হল:
বর্তমান ভ্যাট–শুল্ক কাঠামো কী ভাবে বদলেছে?
আগে এলপি গ্যাস–এ কর প্রযোজ্য হত:
এবার নতুন সিদ্ধান্তে:
✔ স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ৭.৫% ভ্যাট মওকুফ করা হয়েছে।
✔ আমদানি পর্যায়ের ২% আগাম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে।
✔ এখন শুধু আমদানি পর্যায়ে ৭.৫% ভ্যাট ধার্য করা হবে।
এভাবে কর এক স্তরে সীমাবদ্ধ হলো, এবং বাকি পর্যায়ে আর কোন ভ্যাট/ট্যাক্স আরোপ করা হবে না।
অর্থাৎ পরিপূর্ণ ভ্যাট কাঠামো সহজ ও এক স্তরে চলে এসেছে শুধু আমদানির সময়েই ৭.৫% ভ্যাট ধার্য হবে, এরপর উৎপাদন/বিক্রয়ে আর ভ্যাট লাগবে না।
ভ্যাট কমানোর উদ্দেশ্য কী?
সরকার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) জানিয়েছে যে এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো:
ভ্যাট কমানোর ফলে দাম–সংক্রান্ত কী প্রভাব পড়তে পারে?
NBR বলছে, এই ভ্যাট পুনর্গঠন/সংযোজনের কারণে এলপি গ্যাসের মোট ভ্যাট-ভারের বোঝা প্রায় ২০% কমবে।
অনেক শিল্প উদ্যোক্তা মনে করছেন এ কারণে বাজারে কিছুটা দাম কমতে পারে। তবে দাম-পরিবর্তন বাস্তবে আন্তর্জাতিক শুল্ক/খরচ ও আমদানি খরচের ওপরও নির্ভর করবে।
একটি উদাহরণ:
এনবিআর-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন আমদানি স্তরে ৭.৫% ভ্যাট হবে। আগের মতো উৎপাদন বা ব্যবসায় স্তরে ভ্যাট আরোপ থাকলে ভ্যাট হিসাব আরও বাড়তো। ফলে নতুন কাঠামোর কারণে ভ্যাটের পরিমাণ কমে যাবে এবং তা ভোক্তাদের মূল্যে কম চাপ ফেলবে।
সিদ্ধান্ত টি কতদিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে?
এই ভ্যাট-শুল্ক পরিবর্তন ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর এবং ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে, যদি সরকার এরপর আর নতুন কোন পরিবর্তন না করে।
এটা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এলপি গ্যাস বাংলাদেশে গৃহস্থালি রান্না, ব্যবসা ও শিল্পখাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত একটি জ্বালানী।
এর উপর জটিল ভ্যাট প্রণালী থাকলে গ্রাহক দাম বেশি দেয় এবং বাজারে কৃত্রিম সংকটও তৈরি হতে পারে।
ভ্যাট এক স্তরে সীমাবদ্ধ করলে মূল্য কম রাখার সুযোগ বৃদ্ধি পায়, কর ফাঁকি কমে, এবং বাজারে সরবরাহও সহজ হয়।
সার সংক্ষেপ:
| বিষয় | পুরনো ব্যবস্থা | নতুন ব্যবস্থা |
| ভ্যাট (স্থানীয় উৎপাদন/বিক্রয়) | ৭.৫% | (মওকুফ) |
| আগাম কর (আমদানি) | ২% | (প্রত্যাহার) |
| ভ্যাট (আমদানি) | ছিল | (৭.৫%) |
| ভ্যাট স্তরের সংখ্যা | বহু স্তর | এক স্তর |
Leave a Reply