‘শূন্য’ আয়কর রিটার্ন (করযোগ্য আয় নেই/প্রদেয় কর ০ টাকা) জমা দিলে নিজে থেকে কোনো জরিমানা হয় না যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ও সঠিকভাবে দাখিল করা হয়। প্রযোজ্য আইন ও প্রশাসন: আয়কর আইন, ২০২৩; জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। নিচে আরও বিস্তারিত দেওয়া হলো। এখন অনেক করদাতা শূন্য রিটার্ন দেন। তাঁদের অনেকেই নিজের আয়-ব্যয়ের সঠিক তথ্য না দিয়ে কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য শূন্য রিটার্ন জমা দেন।কিন্তু মিথ্যা তথ্য দিয়ে শূন্য রিটার্ন দেওয়া হলে জেল ও জরিমানা হতে পারে। এনবিআরের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, যত রিটার্ন জমা পড়ে, এর মধ্যে ২৫-৩০ শতাংশ শূন্য রিটার্ন পড়ে। এখন সোয়া এক কোটির মতো কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। তাঁদের মধ্যে ৪০-৪২ লাখ টিআইএনধারী প্রতিবছর রিটার্ন জমা দেন।
কখন‘শূন্য’ রিটার্ন দেওয়া যায়?
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
- আপনার করযোগ্য আয় করমুক্ত সীমার নিচে, অথবা
- কর হিসাব শেষে প্রদেয় কর = ০ টাকা (রিবেট/ট্যাক্স ক্রেডিট/অ্যাডজাস্টমেন্টের পর)
- আগাম কর/টিডিএস কাটা থাকলেও চূড়ান্ত হিসাবে কর শূন্য হলে।
অনেক ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল আবশ্যিক (টিআইএনধারী, নির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক ঋণ/ক্রেডিট কার্ড সীমা, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ইত্যাদি)। আয় কম হলেও তখন শূন্য রিটার্ন দিতে হয়।
জরিমানা কবে হবে, কবে হবে না?
সময় মতোও সঠিক ভাবে দিলে:
- কোনো জরিমানা নেই।
- রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা পূরণ হয়েছে ধরা হয়।
দেরিতে দিলে:
- বিলম্ব জরিমানা প্রযোজ্য হতে পারে নির্দিষ্ট অর্থদণ্ড/শতকরা হারে (আইনে নির্ধারিত)।
- কর বকেয়া না থাকলেও শুধু দেরির জন্য জরিমানা হতে পারে।
- দীর্ঘ বিলম্বে অতিরিক্ত সারচার্জ/সুদ প্রযোজ্য হতে পারে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
ভুল/তথ্য গোপন করলে:
- ভুল তথ্য, আয় গোপন, বা ইচ্ছাকৃত ভ্রান্ত ঘোষণায় অর্থদণ্ড/অতিরিক্ত কর ধার্য হতে পারে।
- গুরুতর ক্ষেত্রে মামলা/প্রসিকিউশনও হতে পারে।
বাস্তব উদাহরণ:
- চাকরিজীবী A: বার্ষিক আয় করমুক্ত সীমার নিচে, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলেন → জরিমানা নেই।
- ব্যবসায়ী B: কর শূন্য, কিন্তু সময়সীমা পেরিয়ে জমা দিলেন → বিলম্ব জরিমানা হতে পারে।
- ব্যক্তি C: ব্যাংক সুদ উল্লেখ করেননি → পরবর্তীতে রিভিশন/স্ক্রুটিনিতে ধরা পড়লে জরিমানা/অতিরিক্ত কর হতে পারে।
কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?
- সব উৎসের আয় (ব্যাংক সুদ, ভাড়া, ফ্রিল্যান্স ইত্যাদি) উল্লেখ করুন even করমুক্ত হলেও।
- প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করুন (বেতন স্লিপ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, টিডিএস সনদ)।
- অনলাইনে দাখিল করলে Acknowledgement/রসিদ ডাউনলোড করে রাখুন।
- ভুল বুঝতে পারলে সময়মতো সংশোধিত (রিভাইজড) রিটার্ন দিন।
সারসংক্ষেপ:
- সময়মতো শূন্য রিটার্ন = জরিমানা নেই।
- দেরি/ভুল তথ্য = জরিমানা হতে পারে, কর শূন্য হলেও।
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
Leave a Reply