ট্যাক্স না কমালে ব্যবসায়ীরা বিদেশে চলে যেতে পারে এই যুক্তির পেছনে অর্থনৈতিক, আর্থিক ও কৌশলগত বেশ কিছু কারণ কাজ করে। নিচে বিষয়টি আরও বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হলো। বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হল:-
উচ্চ কর মানে কম নিট লাভ। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডাররা সর্বোচ্চ রিটার্ন আশা করেন। যদি একই ব্যবসা কম করের দেশে করলে বেশি মুনাফা পাওয়া যায়, তাহলে পরিচালনা পর্ষদের ওপর সদরদপ্তর বা উৎপাদন স্থানান্তরের চাপ তৈরি হয়।
উদাহরণ হিসেবে, Ireland কম কর্পোরেট করহার (দীর্ঘদিন ১২.৫%) দিয়ে বহু বহুজাতিক কোম্পানিকে আকৃষ্ট করেছে।
দেশগুলো বিদেশি বিনিয়োগ টানতে কর হার কমায় বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলে। যেমন:
যদি কোনো দেশ তুলনামূলকভাবে বেশি কর আরোপ করে, তাহলে বিনিয়োগ সেসব দেশে সরে যেতে পারে যেখানে কর কম এবং প্রণোদনা বেশি।
উচ্চ কর → বেশি অপারেটিং খরচ → পণ্যের দাম বৃদ্ধি → রপ্তানিতে প্রতিযোগিতা কমে যাওয়া।
বিশেষ করে গার্মেন্টস, প্রযুক্তি বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে সামান্য খরচ বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। ফলে ব্যবসায়ীরা কম করের দেশে কারখানা স্থাপন করতে আগ্রহী হয়।
শুধু করহার নয়, করব্যবস্থা জটিল হলে:
এসব কারণে ব্যবসায়ীরা স্থিতিশীল নীতির দেশে যেতে পারে।
যদি একটি কোম্পানি একাধিক দেশে ব্যবসা করে এবং দ্বৈত করের ঝুঁকি থাকে, তাহলে তারা সেই দেশে সদরদপ্তর স্থাপন করতে চাইবে যেখানে ডাবল ট্যাক্সেশন এগ্রিমেন্ট (DTA) বেশি।
এই কারণে অনেক কোম্পানি ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যের নির্দিষ্ট দেশে নিবন্ধিত হয়।
যখন বড় ব্যবসা বিদেশে চলে যায়:
দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সব ব্যবসা শুধু করের জন্য দেশ ছাড়ে না। তারা বিবেচনা করে:
অনেক সময় বড় বাজার থাকলে কিছুটা বেশি করও ব্যবসায়ীরা মেনে নেয়।
ট্যাক্স না কমালে ব্যবসায়ীরা বিদেশে চলে যাবে এটি পুরোপুরি নির্ভর করে আন্তর্জাতিক তুলনা, বিনিয়োগ পরিবেশ ও নীতির স্থিতিশীলতার ওপর। যদি করহার প্রতিযোগী দেশের তুলনায় অনেক বেশি হয় এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা থাকে, তাহলে ব্যবসা স্থানান্তরের ঝুঁকি বাড়ে।
Leave a Reply