সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত “হঠাৎ উৎসে কর দ্বিগুণ” বলে যেটা আলোচিত হচ্ছে, সেটা আসলে কী, কেন হলো এবং কী প্রভাব পড়ছে নিচে বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হল:-
আগের কর কাঠামো কী ছিল?
আগে (২০১৯ সাল থেকে) সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর কাঠামো ছিল এমন
যে বিনিয়োগকারীর মোট সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগ ≤ ৫ লক্ষ টাকা, তার মুনাফা-আয়ের উপর ৫ % উৎসে কর ধার্য হতো।
বিনিয়োগ ৫ লক্ষ টাকার বেশি হলে, সেই মুনাফায় ১০ % উৎসে কর হতো।
এখনো পর্যন্ত এটাই ছিল সরকারি নিয়ম।
অর্থাৎ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা নেট আয় হিসেবে তুলনায় সুবিধা পেতেন কারণ কর কম ছিল।
২০২৬ থেকে কী পরিবর্তন এসেছে?
গত জানুয়ারি ২০২৬ থেকে সরকারি সিদ্ধান্তে হঠাৎ করে এ নিয়মে বদল এসেছে:
এবার থেকে সকল সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগে irrespective of amount, অর্থাৎ ৫ লক্ষ টাকাও থাকুক বা তার বেশি সকলেই ১০ % উৎসে কর দিচ্ছেন।
এর ফলে ৫ লক্ষ টাকার নিচের বিনিয়োগকারীর কর হঠাৎ ৫ % থেকে দাঁড়িয়েছে ১০ %, অর্থাৎ কর প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
সরকারি কোনও বড় বিজ্ঞপ্তি বা প্রেস নোটিশ ছাড়াই এই বদল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে নির্দেশ হিসেবে অর্থ বছর শেষের দিকে (ডিসেম্বর ২০২৫/জানুয়ারি ২০২৬) এসে যায় বলে অনেকে অভিযোগ করছেন।
পরিবর্তন কেন হয়েছে?
সরকার কিছুকাল ধরে রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং ব্যাংক/অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামলানোর জন্য কর-ভিত্তিক পরিবর্তন ও রাজস্ব বৃদ্ধির কৌশল নিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।
এভাবে উৎসে কর বাড়ালে সরাসরি রাজস্ব আয় বেড়ে যায় এবং “ব্যাংক ঋণ-লিকুইডিটি” নিয়ন্ত্রণে পড়ার জন্যও এটি একটি হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৫ লক্ষ টাকার বিনিয়োগ কারীর হাতে কি প্রভাব পড়বে?
ধরা যাক কেউ পরিবারের সঞ্চয়পত্রে ৫ লক্ষ টাকা রাখেন:
এটা বিশেষ করে ছোট-মধ্যম স্তরের বিনিয়োগকারী ও অবসরপ্রাপ্তদের জন্য কঠিন প্রভাব ফেলছে, কারণ তাদের ৫ লক্ষ টাকার মতো বিনিয়োগই সবসময় থাকে এবং কর বাড়ায় হাতে আসা নগদ আয় কমে যাচ্ছে।
কর ছাড় বা রিটার্ন শর্তে সাম্প্রতিক বদল:
এছাড়া একটি ভিন্ন পরিবর্তনও এসেছে সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য আয়কর রিটার্ন শর্তে:
আগের নিয়মে সঞ্চয়পত্র কিনতে ৫ লক্ষ টাকার উপরে হলে আয়কর রিটার্ন লাগত।
এখন সেই সীমা ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে মানে ৫ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর রিটার্ন দেখাতে হবে না।
এই পরিবর্তনটি ২০২৫ সালে হয়েছে।
কিন্তু এই পরিবর্তনটাতে উৎসে কর বাড়ানো নয় এটা কেবল রিটার্ন শর্তে ঢিলেঢালা করা মাত্র।
সার সংক্ষেপে মূল পয়েন্ট গুলো:
| বিষয় | আগের নিয়ম | নতুন নিয়মানুসারে |
| কর হার (≤ 5 লক্ষ) | ৫ % উৎসে কর | ১০ % উৎসে কর |
| কর হার (> 5 লক্ষ) | ১০ % উৎসে কর | ১০ % উৎসে কর |
| আয়কর রিটার্ন শর্ত | > 5 লক্ষ লাগতো | > 10 লক্ষ লাগবে |
ফলাফল: ৫ লক্ষ টাকার বিনিয়োগে কর হঠাৎ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, ফলে নেট আয় কমে গেছে এটাকেই সাধারণভাবে “কর দ্বিগুণ” বলা হচ্ছে যেহেতু আগের সুবিধাটা হারিয়েছে।
আপনার জন্য নেওয়ার সিদ্ধান্তে কী বিবেচনা করবেন?
যদি আপনি বা আপনার পরিবার শুধুমাত্র সঞ্চয়পত্র থেকে মাসিক আয় বা নিরাপত্তা চান
তবে কর বাড়ার কারণে আয় কমবে এটা আগে হিসাব করে নেওয়া জরুরি।
৫ লক্ষের নিচে বা সমমান বিনিয়োগ থাকলে এখন না হয় অন্যান্য বিনিয়োগ বিকল্প (যেমন FDR, মিউচুয়াল ফান্ড, ডিভিডেন্ড-যুক্ত শেয়ার ইত্যাদি) বিবেচনা করা যেতে পারে (আপনার ঝুঁকি গ্রহণক্ষমতা অনুযায়ী)।
কর ছাড় ও রিটার্ন শর্তে সুবিধা পেলেও তা মূলত সঞ্চয়পত্রের নেট আয়ের পরিমাণে সরাসরি প্রভাব ফেলে না।
Leave a Reply