একাধিক নয়, দেশে একক ভ্যাটহার চালুর সুপারিশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থায় একাধিক হারের পরিবর্তে একক ভ্যাটহারের দিকে অগ্রসর হওয়ার সুপারিশ করেছে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত কমিটি। বর্তমানে ভ্যাটের মূল হার ১৫ শতাংশ হলেও বিভিন্ন খাতে তা কমিয়ে একাধিক স্তরে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বহুমাত্রিক হার করব্যবস্থাকে জটিল করে তুলেছে বলে মনে করে কমিটি। বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হল:
১. প্রেক্ষাপট:
বর্তমানে দেশে ভ্যাট কাঠামোতে
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
- বিভিন্ন পণ্য ও সেবার জন্য ভিন্ন ভিন্ন ভ্যাটহার বিদ্যমান
- অব্যাহতি, শূন্যহার, বিশেষ হার মিলিয়ে কাঠামো জটিল
এর ফলে ভ্যাট প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা তিন পক্ষই বিভ্রান্ত হয়।
এই বাস্তবতায় অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও নীতিনির্ধারকদের একাংশ একক ভ্যাটহার চালুর সুপারিশকরে আসছেন।
২. একক ভ্যাটহার চালুর মূল উদ্দেশ্য:
২.১ করব্যবস্থা সরলীকরণ:
- একাধিক হার → জটিল আইন, ব্যাখ্যার সুযোগ
- একক হার → সহজ আইন ও একরূপ প্রয়োগ
ফলে ভ্যাট ব্যবস্থাপনা দক্ষ হয়।
২.২ কর ফাঁকি ও দুর্নীতি হ্রাস:
- বর্তমানে কম ভ্যাটহারের পণ্যের নামে বেশি ভ্যাটযোগ্য পণ্য দেখানোর প্রবণতা রয়েছে
- একক হার চালু হলে শ্রেণিকরণ নিয়ে অস্পষ্টতা ও দুর্নীতির সুযোগ কমে যায়
২.৩ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি:
- সহজ কাঠামোর কারণে করদাতার সংখ্যা বাড়ে
- কর প্রশাসনের নজরদারি কার্যকর হয়
দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে সহায়ক
২.৪ ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ:
- হিসাবরক্ষণ সহজ হয়
- কমপ্লায়েন্স কস্ট কমে
- দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে করনীতি স্পষ্ট ও পূর্বানুমানযোগ্য হয়
৩. অর্থনৈতিক দক্ষতা (Economic Efficiency):
৩.১ নিরপেক্ষতা (Tax Neutrality):
- ভিন্ন ভ্যাটহার বাজারকে বিকৃত করে
- একক ভ্যাটহার ভোক্তার সিদ্ধান্তকে কম প্রভাবিত করে
ফলে সম্পদের দক্ষ বণ্টন সম্ভব হয়
৩.২ প্রতিযোগিতার ভারসাম্য:
- সমজাতীয় পণ্যের ওপর সমান কর
- কৃত্রিম মূল্য সুবিধা বা বৈষম্য দূর হয়
৪. প্রশাসনিক সুবিধা:
৪.১ ভ্যাট প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধি:
- অডিট সহজ হয়
- আইনি বিরোধ ও মামলা কমে
- মানবসম্পদের দক্ষ ব্যবহার সম্ভব
৪.২ ডিজিটাল ভ্যাট ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্য:
- ই-রিটার্ন, ই-ইনভয়েসিং সহজভাবে প্রয়োগ করা যায়
- তথ্য বিশ্লেষণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নত হয়
৫. আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ:
- বহু দেশে একক বা প্রায় একক ভ্যাটহার কার্যকর
- আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF), বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থা জটিল ভ্যাট কাঠামোকে রাজস্ব ক্ষতির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে
- উন্নয়নশীল দেশে সরল ভ্যাট কাঠামো রাজস্ব বৃদ্ধিতে কার্যকর প্রমাণিত
৬. সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ:
৬.১ দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব:
- নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ভ্যাট আরোপ হলে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে পারে
৬.২ মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা:
- কম ভ্যাটযুক্ত খাতে দাম বৃদ্ধি পেতে পারে
৬.৩ রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিরোধ:
- ভ্যাট সংবেদনশীল কর হওয়ায় বিরোধিতা তৈরি হতে পারে
৭. চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সুপারিশ:
৭.১ সীমিত ব্যতিক্রম নীতি:
- মৌলিক খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা
৭.২ সামাজিক সুরক্ষা জোরদার:
- দরিদ্রদের জন্য নগদ সহায়তা
- লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি
৭.৩ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন:
- হঠাৎ নয়, পর্যায়ক্রমে হার সমন্বয়
- ব্যবসায়ীদের অভিযোজনের সময় দেওয়া
৭.৪ ব্যাপক জনসচেতনতা:
- ভ্যাটের উদ্দেশ্য ও সুবিধা ব্যাখ্যা
- স্বচ্ছতা ও বিশ্বাস তৈরি
৮. উপসংহার:
একক ভ্যাটহার চালু-
- করব্যবস্থাকে সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করে
- কর ফাঁকি কমায়
- রাজস্ব বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক দক্ষতা নিশ্চিত করে
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
Leave a Reply