এনবিআর কর্তৃক দেড় বছরে নিত্যপণ্য আমদানি শুল্ক সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো মূলত গত ১৮ মাসে শুল্ক বাড়ানো হয়নি এবং বেশকিছু ক্ষেত্রে শুল্ক কমানো হয়েছে, সাথে এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ও ব্যাখ্যা বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হল:
১.শুল্ক বাড়ানো হয়নি বরং অনেক ক্ষেত্রে কমানো হয়েছে:
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) মহানিয়ন্ত্রক মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, গত দেড় বছর (১৮ মাস) ধরে নিত্যপণ্য আমদানি শুল্ক বাড়ানো হয়নি।
বাস্তবে চাল, পেঁয়াজ, আলু, সয়াবিন তেল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় আইটেমগুলোর শুল্ক কমানো হয়েছে জনস্বার্থ বিবেচনায়।
বিশেষ করে ফল আমদানির ক্ষেত্রে কর বাড়ানোর ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে শুল্ক বাড়ানো হয়নি; বরং আয়কর হার কমানো হয়েছে (ইনকাম ট্যাক্স ১০% থেকে ৫% করা হয়েছে)।
৩.কোন কোন পণ্যের শুল্ক/কর কমানো হয়েছে:
নিচে কিছু প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শুল্ক বা কর কমানোর উদাহরণ:
চাল আমদানিতে শুল্ক–কর ছাড়:
আগে চাল আমদানি করায় শুল্ক-কর ছিল; সরকারের উদ্যোগে শুল্ক-কর ছাড় দিয়েছিল যাতে বাজারে চাল সরবরাহ বৃদ্ধি পায়।
ফলের ওপর ইনকাম ট্যাক্স কমানো:
আমদানি করা ফলের ইনকাম ট্যাক্স ১০% থেকে কমিয়ে ৫% করা হয়েছে; এতে বলা হয় ফলের দাম কমাতে সাহায্য করবে।
খেজুর/ ডেটস-এর শুল্ক কমানো:
রমজান উপলক্ষে ফলের মতো ডেটস/খেজুর আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছিল বিভিন্ন সময়ে।
শর্করা(চিনি) শুল্ক কমানো(গতবছর):
শর্করা আমদানির রেগুলেটরি ডিউটি (সাধারণ শুল্ক) ৩০% থেকে ১৫% করা হয়েছিল।
মোবাইল ফোন ও কম্পোনেন্ট আমদানিতে শুল্ক কমানো:
মোবাইল ফোনের আমদানি শুল্ক ২৫% থেকে ১০% এবং উপাদানের শুল্ক ১০% থেকে ৫% করা হয়েছে (জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায়)।
এগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, শুল্ক কমিয়ে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো ও দাম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার চেষ্টা করা হয়েছে, না শুল্ক বাড়িয়ে।
৩.শুল্ক কমানোর উদ্দেশ্য ও ব্যাখ্যা:
জনস্বার্থ ও বাজার স্থিতিশীলতা:
এনবিআর চেয়েছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক কমিয়ে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ঠিক রাখতে।
রাজস্ব বাড়ানোর জন্য শুল্ক বাড়ানোর প্রয়োজন পড়েনি:
অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার মতো উদ্যোগের কারণে করদাতা সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রাজস্ব আয়ও বাড়ছে; তাই শুল্ক বাড়ানোর দরকার পড়েনি।
মূল্যের বৃদ্ধি ডলারের অস্বাভাবিক ওঠা প্রধান কারণ:
এনবিআর প্রধানের মতে, বাজারে আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়ার মূল কারণ ছিল ডলারের মানের প্রায় ৩৫-৪০% ওভারভ্যালুয়েশন, শুল্ক বা কর বৃদ্ধির কারণে নয়।
সারসংক্ষেপ:
| বিষয় | বাস্তব অবস্থা |
| নিত্যপণ্য আমদানি শুল্ক | বছর দেড় ধরে বাড়ানো হয়নি |
| কিছু পণ্যের শুল্ক | জনস্বার্থে কমানো হয়েছে |
| মূল্য বৃদ্ধির কারণ | ডলারের ওভারভ্যালুয়েশন প্রধান কারণ |
| রাজস্ব সংগ্রহ | অনলাইন রিটার্ন ও আধুনিক ব্যবস্থা-এর মাধ্যমে বাড়ছে |
Leave a Reply