আয়কর রিটার্নে ব্যাংক স্টেটমেন্ট কী ভাবে দেখাবেন এটা অনেকেরই কনফিউশন হয়। নিচে ধাপে ধাপে, সহজ ভাষায় বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হল:-
১. ব্যাংক স্টেটমেন্ট কেন দরকার?
আয়কর রিটার্নে ব্যাংক স্টেটমেন্ট সরাসরি “সংযুক্ত” না করলেও, এটি লাগে কারণ:
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
- আপনার আয়ের উৎস যাচাই করতে
- খরচ ও সঞ্চয় মিলিয়ে দেখতে
- বড় অঙ্কের ডিপোজিট/ট্রান্সফার ব্যাখ্যা দিতে।
- কর কর্মকর্তার চাইলে প্রমাণ হিসেবে দেখাতে।
-
২. কোন কোন ব্যাংক হিসাব দেখাতে হবে:
রিটার্ন বছরে (যেমন ২০২৪–২৫) যেসব হিসাব ব্যবহার করেছেন:
- সেভিংস অ্যাকাউন্ট
- কারেন্ট অ্যাকাউন্ট
- স্যালারি অ্যাকাউন্ট
- DPS / FDR সংযুক্ত অ্যাকাউন্ট
সব গুলো অ্যাকাউন্টই দেখানো উচিত
৩.রিটার্ন ফরমে ব্যাংক সংক্রান্ত অংশ কোথায় দেখাবেন:
(ক) সম্পদ বিবরণী (Statement of Assets):
এই অংশে দেখাবেন-
Bank Balance as on 30 June
- ৩০ জুন তারিখে প্রতিটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যত টাকা ছিল
- সব ব্যাংকের ব্যালেন্স যোগ করে লিখবেন
উদাহরণ:
DBBL Savings A/C : 2,50,000টাকা
Brac Bank Salary A/C: 1,20,000টাকা
মোট ব্যাংক জমা : 3,70,000টাকা
(খ) আয়ের বিবরণীতে (Income Statement):
ব্যাংক স্টেটমেন্ট থেকে যেসব আয় আসে—
- সুদ আয় (Interest Income):
- সেভিংস অ্যাকাউন্ট
- FDR / DPS
“ব্যাংক আমানতের সুদ” খাতে দেখাবেন
-
- ব্যবসা/ফ্রিল্যান্স/চাকরির আয়:
- ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা এলে
মূল আয়ের খাতেই দেখাবেন (আলাদা করে ব্যাংক লিখতে হয় না)
-
৪. ব্যাংকে বড় অঙ্কের জমা (Deposit) হলে কী করবেন?
এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
যদি ব্যাংক স্টেটমেন্টে দেখা যায়:
- হঠাৎ ৫–১০ লাখ টাকা জমা
- নিয়মিত আয়ের সাথে মিল নেই
তখন উৎস ব্যাখ্যা দিতে হবে, যেমন-
- বেতন/ব্যবসার আয়
- জমি/ফ্ল্যাট বিক্রি
- পারিবারিক সহায়তা
- আগের বছরের সঞ্চয়
এগুলো রিটার্নে দেখাতে হয়:
- আয় হিসেবে, অথবা
- করমুক্ত আয় / ক্যাপিটাল রিসিট হিসেবে
-
৫. ব্যাংক ট্রান্সফার কি আয় ধরা হবে?
না, যদি-
- নিজের এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে ট্রান্সফার
- আগের আয়ের টাকা ঘোরানো
হ্যাঁ, যদি-
- অজানা উৎস থেকে টাকা আসে
- নিয়মিত ইনকাম হিসেবে আসে
-
৬. ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হয় কি?
সাধারণত:
- রিটার্নের সাথে জমা লাগে না
কিন্তু—
- কর অফিস চাইলে
- স্ক্রুটিনি হলে
তখন ১ বছরের পূর্ণ ব্যাংক স্টেট মেন্ট দিতে হয়
৭. বাস্তব উদাহরণ (সহজ):
ধরুন:
- চাকরির বেতন মাসে ৫০,০০০
- ব্যাংকে বছরে জমা = ৬,০০,০০০
- ৩০ জুন ব্যালেন্স = ১,৫০,০০০
রিটার্নে দেখাবেন:
- আয়: চাকরি বাবদ ৬,০০,০০০
- সম্পদ: ব্যাংক ব্যালেন্স ১,৫০,০০০
✔মিল থাকলে কোনো সমস্যা নেই
৮. সাধারণ ভুল যেগুলো এড়িয়ে চলবেন:
ব্যাংকে টাকা আছে কিন্তু সম্পদে দেখান না
সুদ আয় গোপন করেন
বড় ডিপোজিটের ব্যাখ্যা নেই
একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট লুকানো
সংক্ষেপে:
- ব্যাংক ব্যালেন্স → সম্পদ বিবরণীতে
- ব্যাংক থেকে আয় → আয়ের খাতে
- বড় জমা → উৎস ব্যাখ্যা বাধ্যতামূলক
- স্টেটমেন্ট → প্রয়োজনে প্রমাণ হিসেবে
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
Leave a Reply