বাংলাদেশে আয়কর রিটার্ন না দিলে কর কর্মকর্তারা গ্যাস, বিদ্যুৎসহ জরুরি পরিষেবার সংযোগ কেটে দিতে পারবেন। এটি সাম্প্রতিক আয়কর আইন ও নির্দেশিকায় আনীত কঠোর ব্যবস্থা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যকর হতে পারে। নিচে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হল:-
১. আইনের ভিত্তি ও কর কর্মকর্তাদের ক্ষমতা:
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
- জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের আয়কর নির্দেশিকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন বা বিবরণী দাখিল না করলে কর কর্মকর্তাদের গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট ইত্যাদি জরুরি পরিষেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
- এই ব্যবস্থা আয়কর আইনের প্রয়োগের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে, এবং করদাতার রিটার্ন জমা না করার জন্যই এটি করা হবে অর্থাৎ শুধুমাত্র কর না দিয়ে থাকলে নয়, রিটার্ন না দাখিল করলে এই ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
২. রিটার্ন না দিলে কী কী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে?
নির্দেশিকায় রিটার্ন দাখিল না করলে কর কর্মকর্তারা নিম্নলিখিত ব্যবস্থা নিতে পারেন:
- জরিমানা “যুক্তিসঙ্গত” কারণ ছাড়া রিটার্ন না দিলে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ১০% পর্যন্ত জরিমানা, সর্বনিম্ন ১,০০০ টাকা।
- সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট ইত্যাদি সংযোগ কেটে দেওয়া।
- অতিরিক্ত কর আরোপ অপরিশোধিত করের ওপর মাসে ২% হারে অতিরিক্ত কর।
- কর ছাড় বা সুবিধা সীমিতকরণ নির্দিষ্ট কর ছাড় বা সুবিধা কমানো।
- বেতন-ভাতা বা সরকারি/বেসরকারি পরিষেবা সম্পর্কিত জটিলতা রিটার্ন না থাকলে কিছু পরিষেবা ও সুবিধা পেতে সমস্যা হতে পারে।
৩. কোন কর দাতাদের জন্য এটা বাধ্যতামূলক?
- যাদের ট্যাক্সযোগ্য আয় নির্দিষ্ট সীমা ছাড়িয়ে যায় বা আইন অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল করতে বাধ্য, তাদের জন্য রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক।
যদিও প্রত্যেক ব্যক্তির আয় ও কর আইন ভিন্ন হতে পারে, সাধারণভাবে উক্ত নিয়মগুলো টিআইএনধারী করদাতাদের জন্য প্রযোজ্য।
৪. সংযোগ কাটা দেয়ার আগে কী ধাপ থাকে?
- সাধারণত রিটার্ন না দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মেনে নেওয়ার পরও যদি রিটার্ন না আসে, তখন কর কর্মকর্তারা উপরে উল্লেখিত ব্যবস্থা নিতে পারেন।
- সংযোগ কাটা দিলে পরে রিটার্ন জমা দিলে আবার তা পুনঃসংযোগের জন্য আবেদন করা যায় (এমনকি অতিরিক্ত শর্তের বিধানও থাকতে পারে)। যদিও বাংলাদেশে এটির বিস্তারিত নিয়ম সরকার বা NBR-এর অফিসিয়াল নির্দেশিকায় আলাদা উল্লেখ থাকতে পারে।
৫. গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
✔ সময়সীমা মেনে রিটার্ন দাখিল করুন এতে জরিমানা ও পরিষেবা বিচ্ছিন্নের ঝুঁকি কমবে।
✔অনলাইনে রিটার্ন দাখিল সুবিধা ব্যবহার করুন NBR-এর ই-ট্যাক্স প্ল্যাটফর্মে সহজে রিটার্ন দাখিল করা যায়।
✔ যদি রিটার্ন জমা বিলম্ব হয়, আগে কর অফিসে যোগাযোগ করে কারণ জানাতে পারেন।
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
Leave a Reply