1. lawyermanik@gmail.com : legalaidbd :
February 13, 2026, 6:08 am

এনবিআরের নজিরবিহীন পদক্ষেপ, কর না দিলে মিলবে না নাগরিক পরিষেবা

  • Update Time : Monday, January 19, 2026
  • 79 Time View

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি একটি নজির বিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে আয়কর রিটার্ন বা করদানের প্রমাণ পেশ না করলে নির্দিষ্ট কিছু সরকারি-বেসরকারি সেবা নাগরিকেরা পেতে পারবেন না। এ সিদ্ধান্তটি মূলত করদাতাদের সংখ্যা বাড়ানো, কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এ লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। 

 ১. সিদ্ধান্তের সারসংক্ষেপ:

 ৩৯ টি সরকারি বেসরকারি সেবা পেতে বাধ্যতামূলকভাবে বার্ষিক আয়কর রিটার্নের প্রমাণপত্র (PSR) দেখাতে হবে। 
রিটার্ন জমা না দিলে এসব সেবা দেওয়া ব্যাংক, কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোকে নিষেধ করা হবে, আর যারা রিটার্ন ছাড়াই সেবা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। 

নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী

 ২. কোন কোন সেবাগুলোতে আয়কর রিটার্ন দেখাতে হবে?

নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেবার উদাহরণ দেওয়া হলো (সম্পূর্ণ তালিকা অনেক বড়): 

 আর্থিক ও ব্যবসায়িক সেবা:

  • ২০ লাখ টাকার বেশি ঋণ গ্রহণ 
  • ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিলে রিটার্ন প্রদর্শন 
  • কোম্পানির পরিচালক বা স্পনসর শেয়ারহোল্ডার হওয়ার ক্ষেত্রে 
  • ট্রেড লাইসেন্স বা লাইসেন্স নবায়ন 

 প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবা:

  • জমি-ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয় বা সম্পত্তি হস্তান্তর 
  • বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ 
  • হোটেল-রেস্টুরেন্ট লাইসেন্স 
  • রাজউক/উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নকশা অনুমোদন 

 অন্যান্য:

  • সরকারি চাকরিতে নিয়োগ/বেতন প্রাপ্তি 
  • নির্বাচনে অংশগ্রহণ 
  • ইটভাটার লাইসেন্স, পরিবেশ-সংক্রান্ত অনুমতি 

লক্ষ্যণীয়: কিছু সেবার ক্ষেত্রে রিটার্ন ছাড়ানে ওয়া যাবে না, কিন্তু কিছু সংক্ষিপ্ত বা ছোট সেবা (যেমন নির্দিষ্ট সীমার নিচে আমানত, ই-কমার্স লাইসেন্স ইত্যাদি) রিটার্ন ছাড়াই নেওয়া যায়  তবে প্রধান নির্দেশটি রিটার্ন দেখানোর ওপরই ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। 

 ৩. কারা রিটার্ন দিতে বাধ্য?

এনবিআরের নিয়ম মতে: 

  • যাদের বার্ষিক আয় করযোগ্য সীমা অতিক্রম করে তারা অবশ্যই রিটার্ন দেবে।
  • কিছু ক্যাটাগরির জন্য রিটার্ন বাধ্যতামূলক, যেমন ঋণ-নির্ধারিত পরিমাণের বেশি গ্রহণ, ব্যবসায়িক দায়িত্ব পালন ইত্যাদি।
  • যদি আয় করযোগ্য সীমার নিচে থাকে, নির্দিষ্ট অবস্থায় “শূন্য রিটার্ন” দাখিল করেও সেবা নেওয়া সম্ভব হতে পারে  যদিও রিটার্ন জমা দিতে হবে। 
  •  

৪. কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো?

এনবিআর এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কয়েকটি কারণে:
কর জাল বাড়ানো এবং কর-নির্ভর নাগরিক সংখ্যা বৃদ্ধি 
 কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দায়িত্ব শীলতা বৃদ্ধি 
সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণে কর-সম্মত নাগরিকদের অগ্রাধিকার তৈরি করা। 

 সমস্যাগুলো ও প্রতিক্রিয়া:

কিছু নাগরিক ও ব্যবসায়ী এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জিং মনে করছেন কারণ:

  • অনেকেই রিটার্ন জমা দেয় না বা জানে না যে এটা বাধ্যতামূলক।
  • রিটার্ন ছাড়াই কিছু সেবা নেওয়া যেত, কিন্তু এখন তা সীমিত করা হয়েছে।
  • যারা আয়কর ফাঁকি দেয়, তাদের সনাক্তকরণও কঠোর হবে। 

 সংক্ষেপে:

➡ এনবিআর বলছে আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে এখন ৩৯ টি সরকারি ও বেসরকারি সেবা নেওয়া যাবে না।
➡ এই নিয়মের লক্ষ্য করদাতাদের সংখ্যা বাড়ানো, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং সেবার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনা।
➡রিটার্ন জমা না থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সেবা দিতে পারবে না বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হতে পারে।

নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 LegalAidBD
Theme Customized By BreakingNews
WhatsApp