স্টারলিংক–ভ্যাট/ট্যাক্স ও ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব-এর মন্তব্য সম্পর্কে নিয়ে বিস্তারিত স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হলো বিশেষ করে বাংলাদেশে স্টারলিংক কেন ভ্যাট-ট্যাক্স-সম্পর্কিত জটিলতায় পড়তে পারে, এবং সরকারের অবস্থান কি ছিল।
১. স্টারলিংকের বাংলাদেশে সেবা–শুরু ও লাইসেন্স:
স্টারলিংক, ইলন মাস্কের পরিচালিত স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা, বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু হয়েছে এবং সরকারের অনুমোদিত লাইসেন্স পেয়েছে। লাইসেন্সটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের অনুমোদনে দেওয়া হয়।
২. ভ্যাট–ট্যাক্স নিয়ে জটিলতার মূল বিষয়:
স্টারলিংককে বাংলাদেশে সেবা চালানোর সময় ট্যাক্স ও ভ্যাট-সংক্রান্ত কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা বাজারে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে:
১) মাসিক “ভ্যাট/ট্যাক্স” ফি:
স্টারলিংককে একটি নিয়ম করা হয়েছে:
প্রতিটি স্টারলিংক সংযোগের(device/connection) জন্য Starlink-কে মাসে US$1 বাংলাদেশ সরকারের কাছে দিতে হবে, যাতে সরকার ভ্যাট/ট্যাক্স-রেকর্ডিং সুনিশ্চিত করতে পারে।
এর মাধ্যমে সরকার চাইছে ট্যাক্স ফাঁকি ছাড়ানো না হয় এবং Starlink-এর প্রতিটি ক্রেতা ভ্যাট-সম্মতভাবে রেজিস্ট্রেশন পায়।
২) একবারি সেট আপ চার্জও সাবস্ক্রিপশন:
স্টারলিংক গ্রাহকদের জন্য সেটআপের খরচ প্রাথমিকভাবে ঢং হয়েছে:
৩. কেন এটি “জটিলতা” তৈরি করেছে?
বাংলাদেশে ইন্টারনেট-টেলিযোগাযোগ খাতে কার্যকর ভ্যাট/ট্যাক্স বিধি আগে স্পষ্ট ছিলনা ফলে:
১) ভ্যাট/ট্যাক্সের নির্দিষ্ট প্রবিধান ছিল না:
ইন্টারনেট-ভিত্তিক সেবা বিশেষত স্যাটেলাইট-ভিত্তিক সেবার ক্ষেত্রে ভ্যাট-কিছু নিয়ম আগেই ঠিক ছিল না ফলে Starlink-এর মতো আন্তর্জাতিক কোম্পানি কীভাবে ট্যাক্স দেবে, সেটা আগেই নির্ধারিত ছিল না।
সরকার এই ক্ষেত্রে Starlink-কে মাসিক US$1 দেয়ার শর্ত দিয়েছে যাতে সেটাপ-ডিভাইস-ভ্যাট ট্র্যাক করা যায় এবং এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোনও কর ফাঁকি না হয়।
২) আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় কোম্পানির সাথে নিয়মের“বিশেষ স্থান”
স্টারলিংক আন্তর্জাতিক কোম্পানি তাই:
এই দুই কারণে সরকারের পক্ষ থেকে “নজরদারি কৰা হয়” এবং Starlink-কে আলাদা শর্ত দেওয়া হয়েছে যাতে মোট রাজস্ব হারানো না যায়।
৪. ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব কি বলেছেন?
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি-বিষয়ক বিশেষ সহকারি, বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনে স্টারলিংক-এ বাংলাদেশের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেছেন:
স্টারলিংক বিদেশি বিনিয়োগের প্রতীক:
তৈয়্যব বলেছেন, স্টারলিংক বাংলাদেশে আনায় সরকার বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ প্রদর্শন করতেচা ইছে এবং এর ফলে ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক কোম্পানি আসতে পারে।
মানসম্মত ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়ার হাতিয়ার:
তৈয়্যব বলেন, বাংলাদেশে ইন্টারনেটের মান অনেক জায়গায় খারাপ; স্টারলিংক বিশেষত প্রত্যন্ত এলাকায় উচ্চ-গতির ইন্টারনেট পেতে সাহায্য করবে।
ভ্যাট/ট্যাক্স ইস্যুতে সরকার ট্যাক্স ফাঁকির সুযোগ দেবেনা:
সরকার চায় যাতে ভ্যাট/ট্যাক্স নিয়ম মেনে সমস্ত ডিভাইস-গ্রাহক অন্তর্ভুক্ত হয়; Starlink প্রতিটি সংযোগে সরকার থেকে NOC নিতে হবে যাতে ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি না হয়।
৫. সমালোচনা ওপ্রশ্ন–উত্তর:
যদিও সরকার Starlink-এর জন্য বিশেষ-ধরনের শর্ত দিয়েছে, কিছু অংশে জল্পনা ও প্রশ্ন উঠেছে যে:
এইসব প্রশ্ন উঠলেও তৈয়্যব বলেন সরকার আইনি নিয়ম ও ভ্যাট-ট্যাক্স ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করছে যাতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি না হয় এবং একই সাথে নতুন প্রযুক্তি সন্নিবেশ সহজ হয়।
সারসংক্ষেপ:
✔স্টারলিংককে বাংলাদেশে আনতে লাইসেন্স ও শর্ত দেওয়া হয়েছে, বিশেষত ভ্যাট-ট্যাক্স-সম্পর্কিত নিয়ম।
✔ Starlink-এর প্রতিটি সংযোগের জন্য মাসে US$1 সরকারকে দিতে হবে যাতে ভ্যাট-ট্যাক্স-রেকর্ড নিশ্চিত হয়।
✔ ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হলো সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা ও বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ তৈরি করা।
✔ এটি ভ্যাট-ট্যাক্স-সম্পর্কে নতুন শর্ত হওয়ায় কিছু আইনি এবং পাবলিক প্রশ্নাদি উঠেছে।
Leave a Reply