বর্তমানে বাংলাদেশে ইনকাম ট্যাক্স(আয়কর)-এর সামগ্রিক পরিস্থিতি আপডেটসহ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করছি (২০২৫-২৬ কর বছর ও বাজেট ভিত্তিক):
১) আয়কর ব্যবস্থা–
ট্যাক্স–ফ্রি ইনকাম (করমুক্ত আয়):
বর্তমানে (২০২৫-২৬ কর বছর) ব্যক্তিগত করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয় সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বার্ষিক৩,৫০,০০০টাকা। অর্থাৎ আপনার বার্ষিক আয় এই অংকের নিচে হলে আয়কর দিতে হয় না। বিশেষ ক্ষেত্রে এই সীমা বেশি:
নারীও প্রবীণ(৬৫+) করদাতা: বেশি সীমা
প্রতিবন্ধী, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য বিশেষ শ্রেণী: আরও ব্যতিক্রমী সীমা থাকে।
এই করমুক্ত সীমা ২০২৫-২৬অর্থ বছরে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে যদিও ভবিষ্যতে বাড়ানোর পরিকল্পনা হয়েছে।
ট্যাক্সের স্তর/ স্ল্যাব ওহারের সারসংক্ষেপ:
বর্তমান (জুলাই ২০২৫ থেকে কার্যকর) আয়কর হার হল প্রগতিশীল (Progressive) নিচে মূল লাইনের ধারণা:
| আয় (বার্ষিক) | কর হার (প্রায়) |
| 3,50,000–উপর | বার্ষিক আয় অনুযায়ী বিভিন্ন স্ল্যাবে কর ধার্য |
| উচ্চ আয় | সর্বোচ্চ ৩০% পর্যন্ত ট্যাক্স ধার্য হতে পারে |
অর্থাৎ ট্যাক্স ফ্রি অংশের উপরে আয় থাকলে বিভিন্ন স্তরে কর ধার্য হয়।
২) ন্যূনতম ট্যাক্স ও নতুন বিধান:
নতুন করদাতাদের জন্য ন্যূনতম ট্যাক্স:
প্রথমবার করদাতা হিসেবে যারা আয়কর রিটার্ন দাখিল করছেন, তাদের জন্য সিম্বোলিক ভাবে ১,০০০ টাকা ন্যূনতম ট্যাক্স চালু করা হয়েছে।
করদাতা যারা আয় আছে কিন্তু খুব কম আয় দেখায়, তাও ন্যূনতম ট্যাক্স প্রদান করতে হতে পারে।
৩) কর রিটার্ন দাখিল ও অনলাইন বাধ্যবাধকতা:
✔ ২০২৫-২৬ কর বর্ষ থেকে সকল ব্যক্তিগত করদাতাদের অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
✔ কিছু ব্যতিক্রম:
✔ ৬৫ বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ ব্যক্তি
✔ শারীরিক প্রতিবন্ধী
✔ বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশী
✔ মৃতকরদাতার প্রতিনিধি এগুলো অনলাইনে বাধ্য নয় (কাগজে/অনুরোধে ছাড় পেতে পারে)।
রিটার্নের সময়সীমা সম্প্রতি বিভিন্নবার বাড়ানো হয়েছে যাতে করদাতারা সহজে ফাইল করতে পারে।
৪) কর ব্যবস্থা আরো কঠোর হচ্ছে:
নন–ফাইলিং–এরশাস্তি:
এনবিআর কঠোর অবস্থান নিয়েছে যদি কোনো করদাতা সময়মতো রিটার্ন জমা না দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে গ্যাস/বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্নের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা আইনভুক্ত করা হয়েছে।
৫) সরকারের লক্ষ্য ও কর সংস্কার পরিকল্পনা:
ট্যাক্স–জিডিপি অনুপাত:
বাংলাদেশের সম্পূর্ণ কর (ট্যাক্স)-এর জিডিপি-তে অনুপাত আন্তর্জাতিক তুলনায় কম তুলনায় কিছু উন্নয়নশীল দেশ থেকেও কম।
এ কারণে সরকার আয়কর থেকে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে, বিস্তৃত কর নেট তৈরিতে এবং কর ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ করতে কাজ করছে।
ট্যাক্স ছাড়ও বিশেষ সুবিধা:
আগামী সংস্কারে বিশেষ শ্রেণীর ট্যাক্স ছাড় বা সুবিধার পরিমাণে বদল আসতে পারে, যেমন সংসদীয় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ছাড় (Tax Exemption Policy) ইত্যাদি যা ট্যাক্স ব্যবস্থাকে আরও ন্যায্য ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে।
৬) ভবিষ্যত পরিকল্পনা (ছকওপরিবর্তন):
✔ আগামী বাজেটে (FY 2026-27) ট্যাক্স-ফ্রি আয় সীমা বাড়িয়ে ৩,৭৫,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
✔ অন্যান্য স্ল্যাব ও কর হার পুনর্বিন্যাসও যেতে পারে যা করদাতাদের উপর নির্ভর করে আর্থিক পরিস্থিতি ও সরকারের রাজস্ব চাহিদা।
সারসংক্ষেপ:
বাংলাদেশের বর্তমান আয়কর ব্যবস্থায়:
✔ ট্যাক্স–ফ্রি আয়সীমা: ৩,৫০,০০০ টাকা (বিশেষ ক্ষেত্রে উঁচু)
✔ অনলাইনই–রিটার্ন বাধ্যতামূলক ও কঠোর রিটার্ন নিয়ম
✔ ন্যূনতমট্যাক্স: নতুন করদাতা জন্য ১,০০০ টাকা
✔ কঠোর কমপ্লায়েন্স: ফাইল না করলে জরিমানা/সেবা বিচ্ছিন্নের সম্ভাবনা
✔ সংশোধনী ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা: সীমা বৃদ্ধি, স্ল্যাব রিফর্ম ইত্যাদি সম্ভাব্য
Leave a Reply