উপজেলার ব্যবসায়ীদের করজালে (tax net / করদাতা হিসেবে) আনার প্রসঙ্গে করা সুপারিশ এবং সংশ্লিষ্ট অভিমত এবং কি নির্দেশনা এসেছে তার বিস্তারিত বর্ণনা দিচ্ছি:
কেন এমন সুপারিশ এসেছে:
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
- National Board of Revenue (NBR) এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিপ্রায় শুধু শহর বা বড় ব্যবসায়ী নয়, গ্রাম-উপজেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও অন্যান্য আয়কারীদেরেও করদাতা হিসেবে বিবেচনায় আনতে হবে। কারণ: অনেক জায়গায় যারা “কর প্রদানের যোগ্য আয়” করছে কিন্তু কর দিচ্ছে না। ফলে রাজস্ব আদায় ও করজাল অনেকটাই সীমিত রয়েছে।
- সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে, কর ও ভ্যাট-নীতি এমনভাবে গঠন করতে হবে যাতে “ট্যাক্স-নেট” বিস্তৃত হয়, কর ভুল বোঝা বা করফাঁকির সুযোগ কম হয়।
সুপারিশ ও নির্দেশনাগুলোর মূল বিষয়গুলো:
- জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে এমন সব ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, আইনজীবী, অন্যান্য পেশাজীবী, যারা “করের আওতায় আসার যোগ্য” তাঁদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে; অর্থাৎ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে বিশেষত যারা সরাসরি ক্যাশে কাজ করেন (যেমন: দোকান-দোকানি, част-time/পুরনো-স্টাইল দোকান, প্রাইভেট পেশাজীবী) তাদের আয়-রেকর্ড, ডিজিটাল পেমেন্ট বা রশিদ/ভাউচার ব্যবহারের পক্ষেই বলা হয়েছে। কারণ ক্যাশ লেনদেন হলে “রেকর্ড ছাড়া” কর ফাঁকি সহজ।
- ভ্যাট ও ইনকাম-ট্যাক্স প্রশাসনকে (NBR) আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিভিত্তিক করতে হবে: কর-রিটার্ন, কর ফাঁকি, অস্বচ্ছতা ও হয়রানির সুযোগ কমাতে হবে।
- করদাতাদের মধ্যে “স্বেচ্ছায় করদাতা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আগ্রহ সৃষ্টি” (incentive + সহজ নিয়ম + সৎ প্রশাসন) প্রয়োজন যাতে কর প্রদানে ‘ভীতি বা দ্বিধা’ না থাকে।
সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত / নির্দেশনা (২০২৫):
- ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫: এক সম্মেলনে Salehuddin Ahmed (অর্থ উপদেষ্টা) বলেছেন, যারা গ্রাম-উপজেলা বা প্রত্যন্ত এলাকায় আয় করেন কিন্তু এখনো কর দিচ্ছেন না, তাদের করদাতা হিসেবে আনতে হবে। ডিসিদের (জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসক) সেই তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই নির্দেশে বলা হয়েছে, বিশেষত দোকান-ব্যবসা, প্রাইভেট পেশাজীবী যাদের ফি/বিক্রয় হয় তাদের রশিদ/ভাউচার ব্যবহার করতে বলবে, এবং ডিজিটাল পেমেন্ট বা রেকর্ডিং-সিস্টেমের দিকে উৎসাহিত হবে।
- সরকারের দৃষ্টিতে, কর আইন এবং রাজস্ব প্রশাসনকে এমনভাবে রূপ দিতে হবে যাতে কর ব্যবস্থাপনা “সহজ, স্বচ্ছ, এবং প্রায়োগিক” হয় যাতে করজাল সম্প্রসারণ সম্ভব হয়।
কারা এই নির্দেশনা/সুপারিশ দিতে বলেছে:
- নির্দেশ এসেছে অর্থ মন্ত্রনালয়ের উচ্চ পর্যায়ে, অর্থ উপদেষ্টার মাধ্যমে। প্রয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসক (DC), উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট তহসিল/স্থানীয় প্রশাসনিক অফিসারদের ওপর।
সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ:
- অনেক গ্রাম-উপজেলা বা প্রত্যন্ত এলাকায় ডিজিটাল পেমেন্ট বা রেকর্ড রাখার ব্যবস্থাপনা এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি তাই রূপ বদলটা সহজ নয়।
- আয় বা লাভকে সঠিকভাবে যাচাই/নিশ্চিত করা কঠিন, বিশেষত যখন লেনদেন ক্যাশে এবং রশিদ/ভাউচার নেই।
- করদাতাদের মাঝে অনিচ্ছা বা ভয় থাকতে পারে যদি কর অফিস বা প্রশাসন ‘হয়রানি’ বলে মনে হয়।
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
Leave a Reply