বাংলাদেশের National Board of Revenue (NBR) বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, “সারা বছর (year-round)” অনলাইনে (e-Return) রিটার্ন দেওয়ার সুবিধা ও “বিলম্ব / দেরিতে দাখিল” করলে কি কি বাড়তি টাকা বা জরিমানা লাগবে বিস্তারিত বলছি:
Year-Round রিটার্ন জমা: কেন এবং কী সুবিধা:
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
- NBR বলেছে, এখন থেকে ব্যক্তিগত করদাতারা সারাবছর অনলাইনে আয়কর রিটার্ন (e-Return) জমা দিতে পারবেন।
- এর ফলে, পুরনো নিয়ম অনুযায়ী শুধু নির্দিষ্ট “ট্যাক্স-ডে”র মধ্যে না, বরং বছরের যে কোনো সময়েই রিটার্ন দাখিল করা যাবে।
- অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করলে বিশেষ কাগজপত্র দেখাতে বা অফিসে যেতে হয় না; বাসা থেকে খুব সহজে রিটার্ন জমা যায়।
বিলম্বিত রিটার্ন: কী হার/জরিমানা লাগবে:
যদি আপনি আগামী নির্ধারিত তারিখ (যেমন “ট্যাক্স-ডে” বা সংশ্লিষ্ট সময় সীমা) মিস করেন, তারপরও রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন, কিন্তু নিচের শর্ত ও জরিমানা প্রযোজ্য হবে:
- NBR জানিয়েছে: “বকেয়া (unpaid) কর” অর্থাৎ, আপনি যদি নির্ধারিত সময়ের আগে কর পরিশোধ না করেন; এরপর রিটার্ন জমা দিলে, 2% প্রতি মাস (per month) হারে জরিমানা আরোপ হবে।
- এই ২ % ফ্যানালিটি সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত ধার্য করা হবে। অর্থাৎ যদি আপনি ২৪ মাস পর রিটার্ন দেন, তাহলে সর্বোচ্চ পর্যন্ত ৪৮% জরিমানার বোঝা হতে পারে।
- সাথে যারা সময়মতো রিটার্ন দেননি এবং বিনিয়োগ-রিবেট বা কর-ছাড় (tax rebate / exemption) পাওয়ার যোগ্য ছিল তারা সেই সুবিধাও আর পাবেন না।
কি কোন “গ্রেস–পরিয়ড (grace period)” আছে:
- ২০২৫ সালের উদাহরণ হিসেবে NBR ৩০ নভেম্বরের আগে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় ছিল। পরে একমাস বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর দেওয়া যাচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।
- কিন্তু এই “এক্সটেনশন” শুধুমাত্র নির্ধারিত সীমার (extended deadline) জন্য। তারপরেও, সময় শেষ হলে ২%/মাস জরিমানা প্রযোজ্য হবে।
কি “সব সময়ই ২% / মাস” হবে:
- NBR–র নিয়ম অনুযায়ী, “বকেয়া কর” (unpaid tax) থাকলে ২%/মাস জরিমানা আরোপিত হবে।
- তবে, যদি আপনি রিটার্ন দাখিল না করেন তাহলে আইন অনুযায়ী (ধারা ১৬৬, ১৭৪ ইত্যাদি) ১০% জরিমানা বা ন্যূনতম Tk 1,000 হতে পারে, এবং প্রতিদিন ৫০ টাকা অতিরিক্ত জরিমানা (অতিরিক্ত দেরির জন্য) ধার্য হতে পারে।
- অর্থাৎ “দেরিতে রিটার্ন দাখিল কর না পরিশোধ” এই দুইয়ের জন্য ঝুঁকি রয়েছে; শুধু দেরি হলেও ২%/মাস; আর কর না দিলে আরও কঠিন জরিমানা।
আমার পরামর্শ:
যদি আপনার কর দিতে হয়: সময়মতো (Deadline / extended-deadline) রিটার্ন দিন এবং কর পরিশোধ করুন। তাহলে আপনি জরিমানা এড়াতে পারবেন।
- যদি আপনি সময়মতো না দিচ্ছেন, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব রিটার্ন কর পরিশোধ করুন যাতে ২%/মাস জরিমানা কম হয়।
- বিশেষ পরিস্থিতিতে (বিনিয়োগ রিবেট, কর ছাড় ইত্যাদি) থাকলে চেষ্টা করুন সময়মতো রিটার্ন দিতে কারণ বিলম্ব করলে রিবেট/ছাড় পাওয়া যাবে না।
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
Leave a Reply