জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের (Value Added Tax) আওতায় আসার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতির আনুষ্ঠানিকীকরণ এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
এনবিআর চেয়ারম্যানের বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
চেয়ারম্যান স্পষ্ট করেছেন যে, ছোট বা বড় যাই হোক না কেন, দেশে যারা ব্যবসা করছেন তাদের ভ্যাট নিবন্ধন (BIN) থাকতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ভ্যাটের আওতার বাইরে থাকার যে মানসিকতা পোষণ করেন, তা পরিবর্তনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়িক লেনদেনে স্বচ্ছতা আনতে এনবিআর ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস (EFD) এবং সেলস ডাটা কন্ট্রোলার (SDC) ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
এনবিআর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে ভ্যাট অব্যাহতির তালিকা কমিয়ে আনার কথা ভাবছে। বর্তমান কাঠামোতে অনেক খাত ভ্যাটমুক্ত সুবিধা ভোগ করে, যা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে এনে একটি সুষম ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা চলছে। এর ফলে ব্যবসার সব পর্যায়ে ‘ভ্যালু অ্যাড’ বা মূল্য সংযোজন ট্র্যাক করা সহজ হবে।
রাজস্ব বোর্ডের প্রধান হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, যারা ব্যবসা করে মুনাফা করছেন কিন্তু ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং নিয়মিত অডিট জোরদার করা হবে। বিশেষ করে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে ভ্যাট সংগ্রহের হার বাড়ানোই এখন এনবিআর-এর প্রধান লক্ষ্য।
বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত (Tax-to-GDP ratio) অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ কম। উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়ন এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব বাড়ানো অপরিহার্য।
সারকথা: এনবিআর চেয়ারম্যানের বার্তাটি খুব সহজ “ব্যবসা করলে ভ্যাট দিতে হবে।” এটি কেবল বড় কোম্পানি নয়, বরং চেইন শপ থেকে শুরু করে মাঝারি পর্যায়ের সকল ব্যবসার জন্য প্রযোজ্য করার প্রক্রিয়া চলছে
Leave a Reply