আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে কিন্তু এই শেষ সময়ে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে অনেকেই এমন কিছু ভুল করেন, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের আইনি জটিলতা বা জরিমানার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে ডিজিটালাইজেশনের কারণে ছোট ভুলও এনবিআরের (NBR) নজরে চলে আসে সহজে।
রিটার্ন জমার সময় যেসব ভুল একদমই করা যাবে না, তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
১. আয়ের উৎস ও তথ্য গোপন করা:
অনেকে মনে করেন সঞ্চয়পত্রের সুদ বা ব্যাংকের ছোটখাটো মুনাফা না দেখালেও চলবে। এটি বড় ভুল।
- সব আয়ের হিসাব: বেতন, বাড়ি ভাড়া, ব্যবসা বা শেয়ার বাজারের আয়ের পাশাপাশি ব্যাংক জমানোর সুদ ও ডিভিডেন্ডের সঠিক তথ্য দিন।
- করমুক্ত আয়: আপনার আয় যদি করমুক্ত সীমার নিচেও হয় (যেমন কৃষি বা নির্দিষ্ট খাতের আয়), সেটিও রিটার্নে উল্লেখ করতে হবে।
২. সম্পদ ও দায়ের অসামঞ্জস্য(Wealth Statement):
আপনার জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্জিত সম্পদের সাথে বার্ষিক আয়ের মিল থাকতে হবে।
- আইটি–১০বি ফরম: আপনার নিট সম্পদ যদি ৪০ লাখ টাকার বেশি হয়, তবে এই ফরম পূরণ বাধ্যতামূলক। এখানে ভুল তথ্য দিলে বা কোনো সম্পদ লুকিয়ে রাখলে “বেনামি সম্পদ” হিসেবে গণ্য হতে পারে।
৩. জীবন যাত্রার ব্যয় (Lifestyle Expense) কম দেখানো:
বাস্তবসম্মত জীবনযাত্রার ব্যয় না দেখালে কর কর্মকর্তার সন্দেহ তৈরি হতে পারে। আপনার বার্ষিক আয় অনুযায়ী খাদ্য, বস্ত্র, ইউটিলিটি বিল এবং ভ্রমণ খরচ সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। আয়কর রির্টানে জীবনযাত্রার মান সঠিক ভাবে দেখানো গুরুত্বপূর্ণ । এছাড়া আয়কর রিটার্ননের শেষ সময় ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে শেষ হবে।
৪. কর রেয়াত বা বিনিয়োগের ভুল হিসাব:
বিনিয়োগের মাধ্যমে কর ছাড় পেতে চাইলে সেটি অবশ্যই নির্দিষ্ট খাতের হতে হবে।
- যাচাই: ডিপিএস, জীবন বিমা, সঞ্চয়পত্র বা সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের প্রমাণপত্র (Certificate) হাতে রেখে হিসাব করুন।
- ভুল: অনুমোদনহীন কোনো খাতে বিনিয়োগ দেখিয়ে রেয়াত দাবি করবেন না।
৫. ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও চালানের গরমিল:
- টিডিএস (TDS): আপনার বেতন বা ব্যাংক মুনাফা থেকে যদি আগে কর কেটে রাখা হয়, তবে সেই চালানের কপি সংগ্রহ করুন। রিটার্নে দেখানো কর পরিশোধের তথ্যের সাথে চালানের তথ্যের মিল না থাকলে আপনার রিটার্ন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
৬. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও টিআইএন(TIN) তথ্য:
- বর্তমানে সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রেডিট কার্ড টিআইএন-এর সাথে যুক্ত। তাই আপনার সক্রিয় সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স ও তথ্য রিটার্নে উল্লেখ করুন। কোনোটি বাদ পড়লে তা গোপন সম্পদ হিসেবে ধরা হবে।
শেষ মুহূর্তের জন্য জরুরি কিছু টিপস:
- অনলাইন রিটার্ন: সম্ভব হলে ই-রিটার্ন (e-Return) পোর্টাল ব্যবহার করুন। এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনেক হিসাব হয়ে যায় এবং ভুলের সম্ভাবনা কমে।
- প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (Acknowledgment Slip): রিটার্ন জমা দেওয়ার পর প্রাপ্তি স্বীকারপত্রটি সংগ্রহ করুন এবং যত্ন করে রাখুন।
- স্বাক্ষর ও তারিখ: আয়কর রিটার্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । আয়কর রিটার্নের শেষ তারিখ ৩১ মার্চ ২০২৬ এ শেষ হবে। আয়কর রিটার্ন ফাইলে করদাতার স্বাক্ষর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফিজিক্যাল রিটার্ন জমা দিলে সব পাতায় স্বাক্ষর নিশ্চিত করুন।
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী
Leave a Reply