1. lawyermanik@gmail.com : legalaidbd :
March 3, 2026, 4:27 pm

ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে ট্যাক্স অন ট্যাক্স

  • Update Time : Tuesday, March 3, 2026
  • 42 Time View

বাংলাদেশে ব্যবসার খরচ বা ‘Cost of Doing Business’ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ট্যাক্স অন ট্যাক্স (Tax on Tax) বা করের ওপর কর। সহজ কথায়, যখন কোনো পণ্যের ওপর একবার ট্যাক্স দেওয়ার পর সেই বর্ধিত মূল্যের ওপর পুনরায় ট্যাক্স ধরা হয়, তখন তাকে ট্যাক্স অন ট্যাক্স বলা হয়।

নিচে এর বিস্তারিত প্রভাব ও কারণগুলো আলোচনা করা হলো:

নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী

. ক্যাসকেডিং ইফেক্ট(Cascading Effect):

এটি হলো ট্যাক্স অন ট্যাক্সের মূল ভিত্তি। ধরুন, একটি কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক দেওয়া হয়েছে। যখন সেই কাঁচামাল দিয়ে পণ্য তৈরি করা হয়, তখন আগের দেওয়া শুল্কসহ মোট মূল্যের ওপর আবার ভ্যাট (VAT) আরোপ করা হয়। এর ফলে পণ্যের দাম চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকে।

. অগ্রিম আয়কর (AIT) অগ্রিম কর(AT):

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা আমদানির সময় Advanced Income Tax (AIT) এবং Advance Tax (AT) প্রদান করেন।

  • সমস্যা: অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসার বছর শেষে লাভ না হলেও এই অগ্রিম কর ফেরত পাওয়া অত্যন্ত জটিল ও সময় সাপেক্ষ।
  • প্রভাব: এতে ব্যবসায়ীদের বড় অঙ্কের মূলধন আটকে যায় (Liquidity Crisis), যা ব্যবসার দৈনন্দিন খরচ বা ‘ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল’ বাড়িয়ে দেয়।

. একাধিক স্তরে ভ্যাট(Multiple Stages of VAT):

পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে প্রতিবার যখন ভ্যাট যোগ হয়, তখন যদি সঠিক ‘রেয়াত’ (Credit) না পাওয়া যায়, তবে প্রতি স্তরেই খরচ বাড়তে থাকে। অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (SME) এই রেয়াত ব্যবস্থার জটিলতার কারণে দ্বিগুণ করের বোঝা বইতে বাধ্য হন।

. নূন্যতম কর (Minimum Tax):

বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানির লাভের পরিবর্তে টার্নওভার বা আয়ের ওপর নির্দিষ্ট হারে ট্যাক্স দিতে হয়।

  • প্রভাব: কোম্পানি লস (Loss) করলেও তাকে ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। এটি সরাসরি ব্যবসার মূলধন কমিয়ে দেয় এবং টিকে থাকার খরচ বাড়িয়ে দেয়।

ব্যবসায়িক অর্থনৈতিক প্রভাব:

ক্ষেত্রপ্রভাবের ধরণ
পণ্যের মূল্যকরের ভার শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর পড়ে, ফলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে।
প্রতিযোগিতাস্থানীয় পণ্য আমদানিকৃত পণ্যের চেয়ে দামি হয়ে যায়, ফলে দেশি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিনিয়োগঅতিরিক্ত করের জটিলতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা (FDI) নিরুৎসাহিত হন।

সমাধানের পথ কী হতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবসার খরচ কমাতে হলে:

  • অটোমেশন: কর ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা যাতে রেয়াত পাওয়া সহজ হয়।
  • ট্যাক্স নেট বাড়ানো: মুষ্টিমেয় কিছু খাতের ওপর করের বোঝা না চাপিয়ে করদাতার সংখ্যা বাড়ানো।
  • পরোক্ষ কর কমানো: পরোক্ষ করের (যেমন ভ্যাট) চেয়ে প্রত্যক্ষ করের (আয়কর) ওপর জোর দেওয়া।
নির্ভুল আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে NBR তালিকাভুক্ত
কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মানিক দাস, কর আইনজীবী

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 LegalAidBD
Theme Customized By BreakingNews
WhatsApp